Tag Archives: banglablog

আমার সারাটা দিন এমনি গেলো

আজকে ভেবেছিলাম অফিস থেকে ফেরার পথে ল্যাপটপ টা সাথে আনবো না। যেহেতু বাসার ল্যাপটপ টা মেয়ে কিছুদিন আগে পানি ফেলে নষ্ট করে ফেলেছিলো, কাজেই দেখতে চেয়েছিলাম একরাত আমারব্লগ ছাড়া থাকতে পারি কিনা। সেভাবেই ল্যাপটপ রেখে ও এসেছিলাম। কিন্তু মাঝ রাস্তায় এসে মনে হলো কোথাও ভুল হচ্ছে না তো?

আবার ফিরে গেলাম অফিসে , সাথে করে ল্যাপটপ নিয়ে এলাম। এদিকে আজ সকালে তিনজন মিলে কফি খাচ্ছিলাম। বলতেছিলাম যে নতুন বছর থেকে ব্লগিং করবো না আর। দুইজনই বললো, এটা আবার বেশি হয়ে যাবে। ব্লগিং করবেন না কেনো? জানি নিজেকে ধরে রাখা খুব কষ্টের , তারপরও হাত নিশপিশ করলে ও অনেক ক্ষেত্রেই এভয়েড করে থাকতে হবে। আমার যা স্বভাব, আমাকে দিয়ে হবে না আর। আমি ভাই এভয়েড করতে শিখি নাই, লিমিট ক্রস আমি সহ্য করতে পারি না। তাই নিজেকেই সরিয়ে নিবো। খুব দরকার পড়লে আমার ব্যক্তিগত সাইটে হয়তো লিখবো। নতুন বছরের শুরু থেকেই অর্গানাইজড হয়ে চলার প্রিপারেসন নিচ্ছি। নিজের পেশায় নজর দিবো। নো ব্লগিং ফ্লগিং।

ব্লগিং করবো আবু’তে আর ক্যাচাল করবো আমু’তে এরকম চিন্তা করার সুযোগ কেন আসে আমি বুঝি না। আমাকে গালি দিতে মন চাইলে এখানেই দেন ভাই। আমারে জন্মদিন জানাইতে হইলে ও এখানেই সুযোগ আছে। আমারে নিয়ে স্যাটায়ার করবেন তা ও এখানেই দেওয়া যায়। আমাকে ভালো না লাগতে পারে, সেই ইমপ্যাক্ট যেনো ব্লগে না আসে। আমার ও কাউকে ভালো না লাগতে পারে, আমি চেষ্টা করবো সেটার কোন ইমপ্যাক্ট ব্লগে না আনতে।

কেউ যদি আমার অনুমতি ছাড়া আমার কথা রেকর্ড করে ভদ্রবেশে আমি তাকে পছন্দ করবো না। যারা সেই রেকর্ডওয়ালাদের সাপোর্ট করবে তাদের ও আমি ভালোবাসবো না। আর সেটাই স্বাভাবিক। বাট, হু আই এম। আমাকে ব্লগার হিসেবেই ভাবুন। এহামিদার কথায়ই বলতে হয় যে আমার ও তো বাক স্বাধীনতা আছে। নাকি?

এসব লিখতে না লিখতেই ভোরের কাগজের এক খবরের লিঙ্ক – ঢাবিতে নিষিদ্ধ শিবিরের জাল। পুরোটা পড়ার পর কেমন লাগে?

প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে না পারায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কৌশল পাল্টেছে ছাত্রশিবির। ছাত্রদলের হয়েই এখন জোরেশোরে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত এই ছাত্র সংগঠনটি। কর্মী সংকটে পড়ে ছাত্রদলও শিবির কর্মীদের দলে ভেড়াচ্ছে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জামাতপন্থী শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ মদদেও ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম চলছে ক্যাম্পাসে। জানা গেছে, সাদা দলের কয়েকজন প্রভাবশালী জামাতপন্থী শিক্ষক নেতাও শিবিরের কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করছেন। প্রতিকূল অবস্থাতেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিবিরের কার্যক্রম আগের চেয়েও বেশি গতিশীল বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

ভাই, ছাত্রদলেরই বা কি দুষ। আমি তো অনেক শুনেছি যে বর্তমান ছাত্রলীগের সভাপতিই সাবেক শিবিরকর্মী! আমার অতীত অভিজ্ঞতা বলে রিপোর্ট ঠিকই আছে।

চরম বাম ও এখন ডানে মোড় নিছে, মধ্যপন্থিরা তো নিবেই। আমরা কি সবাই ডানেই এগুচ্ছি?

ব্লগ নিয়ে ব্লগিং ২০০৯

সারাদিন ধরে মাথায় টপিক টা খেলতেছিলো। সন্ধায় লিখবো লিখবো করতেই কিছু ঝামেলায় পড়ে যাওয়াতে আর লেখা হয়ে উঠে নাই। এর মধ্যেই আমি ফিরে দেখা আমারব্লগ নামে ৬ পর্বের একটি সিরিজ লিখেছিলাম। আইডিয়া টা তখনই মাথায় আসে।

সারা বছর জুড়েই বাংলা সব ব্লগেই আনাগোনা ছিলো। আমারব্লগ ছাড়া ও অন্যান্য বাংলা ব্লগে ও পোস্ট দিয়েছি টুকটাক। এর মধ্যে প্রথম আলোব্লগে পোস্ট দিলাম একটিসামওয়ারহীন ব্লগে পোস্ট ছিলো সম্ভবত ১৩১ টি। সব গুলো পোস্ট ড্রাফট করে রেখেছিলাম। কয়েকদিন আগে আমাদের পুরনো কমরেড সুমন চৌধুরী সামুতে পোস্ট দিয়েছিলো একটা। কি মনে করে জানি আমি ও দিয়েছিলাম , পরে ড্রাফট করে নিছি। নির্মানঃ মুক্তাঙ্গন ব্লগে পোস্ট দিয়েছি তিন টা।

আরেকটা ব্লগ আছে মুক্তমনা বাংলাব্লগ। একাউন্ট যদি ও নাই। মাঝে মধ্যে ব্যাকলিঙ্ক ধরে পড়তে যাই। ইচ্ছে হয় একটা একাউন্ট খুলি। কিন্তু একবার কি কারনে জানি অভিজিত দা’র সাথে হালকা কথা বার্তা হয়েছিলো একটি রাইটার ফোরামে, ভাবি দাদা না আমারে দৌড়ানী দেয়! তাই একাউন্ট করা হয় না।

মাঝে মধ্যে ক্যাডেটকলেজ ব্লগে ও যাই। আমার বেশ কিছু প্রিয় বন্ধুরা ক্যাডেট কলেজ থেকে আসা। ওদের লেখা পড়তে যাই। যেহেতু আমি নিজে ক্যাডেট না তাই ওইখানে লেখার সুযোগ ও নাই।

গ্লোবাল ভয়েস বাংলা মূলত অনুবাদভিত্তিক সাইট হলে ও মাঝে মধ্যে ঢু মারি। বেশ কিছু ভালো অনুবাদ পড়ে ভালো লাগে। আরেকটা ব্লগ আছে নাম এভারগ্রিন বাংলা। নাম জানি। কিন্তু যাওয়া হয় না খুব একটা।

ব্লগ বলতে আপাতত এগুলাই মাথায় আছে। যদি ও বিষয়ভিত্তিক কিছু ভালো ব্লগ আছে যেমন নগরবালক, ভালো করছে ওরা। সময়ের অভাবে খুব বেশি যাওয়া হয় না যদি ও। টেকটিউন নামে একটি বাংলা টেকনোলজি ব্লগ আছে। ওরা ও বেশ ভালো।

আছে বেশ কিছু ভারতীয় বাংলাব্লগ। শুধু নামই জানি। যাই নাই কোন সময়। পাঁচফোড়ন , লোটাকম্বল , কফি হাউসের আড্ডা নামে ব্লগ গুলা আছে।

বাকি রইলো পোর্টাল । পোর্টালের মধ্যে আছে ইমেলা/প্রিয়। বাংলা-ইংরেজী মিক্স। তাই তেমন ভালো লাগে না। তবে ব্যাক লিঙ্ক ধরে মাঝে মধ্যেই যাই সেখানে।

ফোরাম বলতে আমাদের প্রযুক্তি এর সদস্য আমি। একটা পোস্ট ও দিয়েছিলাম। আরেকটা ফোরাম আছে প্রজন্ম ফোরাম। সেখানে একবার রেজি করতে গিয়ে ফিরে আসছিলাম ক্যাপচা না মিলাতে পেরে। পরে আর যাওয়া হয়নি।

রাইটার ফোরাম ও আছে কিছু। যেগুলার লেখার কোয়ালিটি খুব ভালো। যেমন সদালাপ। কিন্তু একটা সমস্যা আছে সেটা তে ও। বাংলা লেখা ও আছে আবার ইংরেজী লেখা ও আছে। দেখতে ভালো লাগে না। যে কোন একটা হলেই ভালো। যেমন আছে প্রোগ্রেসিভ বাংলাদেশ। জটিল জটিল সব লেখা। যদি ও সব লেখা ইংরেজীতে , তা ও আমি ফলো করি সব সময়। আরেকটি বাংলা রাইটার ফোরাম আছে নাম সচলায়তন। যদি ও তারা ঘোষিত রাইটার ফোরাম তারপরে ও সম্প্রতি বেস্ট অব বাংলাব্লগ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করে কিছুটা ডেফিনিয়েসন সঙ্কটে ভুগছে। না ব্লগ না রাইটার ফোরাম দ্বন্দ্ব থেকে বের হতে না পারলে ও ব্লগ -ফোরাম- রাইটার ফোরাম যে কারো চেয়েই ভালো লেখায় এগিয়ে আছে। হাজার হোক কোয়ালিটি লাস্টস।
Continue reading

আমারব্লগ পরিক্রমা ২০০৯

…তারপর সব অভিনয় শেষে , দিন যাপনের সব ক্লেদ ক্লান্তি দীর্ঘশ্বাসকে সরিয়ে রেখে একসময় ইচ্ছে হয় মুখের মুখোশ খুলে একটু নিজেকে দেখি ।

বুকের গভীরে জমিয়ে রাখা নরম কষ্ট , পরাজয়ের বেদনা , বিজয়ের উৎসব এই সব একান্ত কথাগুলো কারো কানে কানে বলে যাই এই অবসরে।

চারপাশে বড়ো বেশি জমাট বাধা কোলাহলমূখর নি:সঙ্গতা ।
বড়ো বেশি শব্দের ভিড় , অপ্রয়োজনীয় চিৎকার।

এই ভিড়ের মাঝে আমারও বলার কিছু ছিল ,আমারও বলার কিছু আছে।আর সেই চুপিসারে নিজের সাথে কথাগুলো বলার জন্য চাই একটা নীরব প্রান্তর।চাই সতীর্থ সহমর্মী মানুষ , যারা হাতড়ে বেড়ায় আমারই মতো কোন এক কথা বলার ভুমি।

এই আয়োজন আমার আর তাদের।

তবে আজ হোক নিজের সাথে কথা , হোক কন্ঠ ছেড়ে আলাপন, হোক এই সব স্বপ্ন ও হতাশার আঁকিবুকি , এই সব লেখালেখি , এই সব ফালতু দিন যাপনের গল্প আর স্বপ্ন কিংবা স্বপ্নের লাশগুলোকে একসাথে জমিয়ে রাখা।

হোক নতুন কিছু ।
হোক একান্ত কিছু আমার ।
যেখানে রক্তচক্ষু নেই , ভ্রুকুটি নেই , নেই কন্ঠরোধের হুইসেল বাঁজানো দারোয়ান।

এই ভূমি সেই তীর্থস্থান।
আন্তরজালের অন্তরবাদ্যি বাঁজাতে এই সেই -আমারব্লগ।

আমার ভোট দেওয়ার দিন লিখেছেন : পুরানপাপী ০১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার), ২০০৯ ১২:০২ পুর্বাহ্ন; এভাবেই শুরু হয়েছিলো আমারব্লগের ২০০৯ । এরপর ইচ্ছা করে সবুজ যুবক হয়ে বেঁচে থাকি, লিখেছেন : একজন মাসুম ২৫ ডিসেম্বর (শুক্রবার), ২০০৯ ৩:০৪ পুর্বাহ্ন- এই পোস্ট পর্যন্ত আমারব্লগে মোট লেখা পোস্টের সংখ্যা ১৯৬৩৫ টি । দৈনিক গড়ে ৫০ টার মতো পোস্ট। অনেকে হয়তো বলবেন কোয়ান্টিটি না কোয়ালিটি নিয়ে বলেন। আরে বাবা, বলছি বলছি, এতো অস্থির হলে চলবে কিভাবে?

১৪ এপ্রিল ২০০৮ এ যে উদ্দেশ্যে আমারব্লগের যাত্রা সেটা আগে ও অনেকবার বিভিন্ন পোস্টে বলা হয়েছে। মূলত “আমারব্লগে আমি লিখবো যা খুশি তাই লিখবো” এই শ্লোগানকে সাথে করে আমারব্লগের যাত্রা শুরু হলে ও পরে সেটি এসে দাঁড়ায় “আমারব্লগ – যেখানে রক্তচক্ষু নেই , ভ্রুকুটি নেই , নেই কন্ঠরোধের হুইসেল বাঁজানো দারোয়ান” এই শ্লোগানে। যদি ও পাশাপাশি এই স্লোগানে ও মুখরিত ছিলো আমারব্লগ “কথা ছিলো ইচ্ছেমতো।” শ্লোগান যাই হোক আমাদের কথা ঠিক জন্মলগ্নে যা ছিলো আজ অব্দি আমরা সেটা ধরে রাখতে পেরেছি।

২০০৯ শুরু করার আগে এর পুর্বের কিছু কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছে। আমারব্লগের শুরুটা হয়েছিলো ওয়ার্ডপ্রেস এম,ইউ ইঞ্জিনের উপর বেইস করে। আমারব্লগের একেবারে প্রথম কয়েকজন ব্লগারের মধ্যে আমি যাদেরকে দেখতে পাই তারা হলেন এডমিন, ইহাব, রাশেদ, হুতুমপেঁচা, অলৌকিক হাসান, এক্স-বিজনেস, একরামুল হক শামীম, রাজীব, বিষাক্তমানুষ, রাতমজুর, মানুষ, নাজির, ছায়ার আলো, কবি আব্দুল, অমিত আহমেদ, নাদান , ভাষ্কর, আইজ্জুদিন, ইরতেজা, আরিফ জেবতিক, কেমিক্যাল আলী,মাহবুব সুমন, প্রলয় হাসান, রাহা , রাগিব, রন্টি, আরিফুর রহমান, ব্লুজ, ক্যামেরাম্যান, মুকুল, হাসিব, হাবিব, হাসান রায়হান, শমসের, লোকালটক, রেজোয়ান প্রমূখ  উল্লেখযোগ্য। উপরের নামগুলোর দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে সময়ের আবর্তে কেউ কেউ হারিয়ে গেলে ও বেশিরভাগই এখনো আমারব্লগে আছেন এবং আগামীতে ও এদের পদচারণা থাকবে বলেই বিশ্বাস।

আমরা যখন ওয়ার্ডপ্রেস এর এম, ইউ তে যাত্রা শুরু করি তখন প্রথম পাতায় লেখাগুলো সরাসরি আসতে ১৫-৩০ মিনিট সময় লাগতো। তাছাড়া বাংলা কী-বোর্ডের সমস্যা তো ছিলোই। ছিলো না বিজয়ের কোন সুবিধা। যদি ও প্রথমাবস্থায় স্পীডের সমস্যা ছিলো না। এমতাবস্থায় আমরা এম,ইউ থেকে সরে আসতে বাধ্য হই। প্রথমে আমাদের ব্লগাদের পেইজ এড্রেস ছিলো এরকম ইউজার ডট আমারব্লগ ডট কম। এম, ইউ থেকে সরে আসায় এটা এসে দাঁড়ায় আমারব্লগ ডট কম/ইউজার। এমনি করে আমরা ছিলাম চলেছি এপ্রিল ২০০৯ পর্যন্ত।

Continue reading