পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের তিন রাজনৈতিক দল- কার অবস্থান কি?

নির্বাচন হলো অংকের খেলা। পরিসংখ্যানের খেলা। এখানে উন্নয়ন, দূর্নীতি তেমন ভূমিকা রাখে বলে মনে হয় না। আমরা যারা ডাটা নিয়ে কাজ করি তাদের কাছে এই অংকটাই আসল।

আমি সেদিন বলছিলাম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মোট প্রাপ্ত ভোট কোনদিন কমে নাই। এটা ১৯৯১ থেকে ক্রমাগত বেড়েই চলছে।

১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে কাস্ট হওয়া ভোটের ৩০.০৮ শতাংশ পায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে দলটির ভোট ৭ শতাংশ বেড়ে ৩৭.৪৪ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০০১ সালের নির্বাচনে দলটির ভোট ৩ শতাংশ বেড়ে ৪০.১৩ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোট আরও প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ৪৮.০৪ শতাংশে দাঁড়ায়।

চলুন দেখি এবার জামায়াত-বিএনপির কি অবস্থা!

বিএনপির ভোট কখনো বেড়েছে, কখনো কমেছে। আর জামায়াতের ভোট ধারাবাহিকভাবে কমেছে। জাতীয় পার্টির ভোট ও ধারাবাহিক ভাবে কমতির দিকেই।

১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে কাস্ট হওয়া ভোটের ৩০.৮১ শতাংশ পায় বিএনপি। ওই বছর তারা ১৪০টি আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে দলটির ভোট ৩ শতাংশ বেড়ে ৩৩.৬০ শতাংশে দাঁড়ায়। ওই বছর ১১৬ আসন নিয়ে বিরোধী দল হয় তারা। এর পর ২০০১ সালের নির্বাচনে ৭ শতাংশ বেড়ে ৪০.৯৭ শতাংশে দাঁড়ায় বিএনপির ভোট। সে বছর তারা ১৯৩ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রাপ্ত ভোট ৮ শতাংশ কমে ৩২.৫০ শতাংশে দাঁড়ায়। এ দফায় তারা মাত্র ৩০ আসন পেলেও বিরোধী দল হয়।

জামায়াতের অবস্থাটা দেখি এবার। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে কাস্ট হওয়া মোট ভোটের ১২.১৩ শতাংশ পায় তারা। আসন পায় ১৮টি। এর পর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিতর্কিত এই রাজনৈতিক দলটির ভোট ৪ শতাংশ কমে ৮.৬১ শতাংশে দাঁড়ায়। সেবার তারা আসন পায় মাত্র ৩টি। ২০০১ সালের নির্বাচনে আরও ৪ শতাংশ কমে তাদের ভোট দাঁড়ায় ৪.২৮ শতাংশে। ভোট কম পেলেও জোটের কল্যাণে সে বছর তারা ১৭টি আসনে বিজয়ী হয়। এর পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে কাস্ট হওয়া মোট ভোটের ৪.৭০ শতাংশ পেলেও আসন পায় মাত্র ২টি।

এই সরল পরিসংখ্যান থেকে এটা সহজেই বুঝা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশে বিএনপির ৩০.৮১% এবং জামায়াতের ৪.২৮% নূন্যতম ভোট আছে। যেহেতু যা জামায়াত তাই বিএনপি এই ৩৫.০৯% ভোট বিএনপির বাক্সে পড়বেই।

আমরা দেখি যেকোন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নূন্যতম ভোট ৩০.০৮%!

বিষয়টা কি দাড়াইলো তাহলে? চলুন দেখে আসি জাতীয় পার্টির বাক্সে কি আছে?

১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত ৫ম জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সর্বমোট ২৭২টি আসনে প্রার্থী দেয়। এতে মাত্র ৩৫টি আসন পায় এরশাদের দল। সেই নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের মধ্যে মাত্র ১১ শতাংশ ভোট পায় জাতীয় পার্টি।১৯৯৬ সালের ৬ষ্ঠ নির্বাচনে কয়েকটি ইসলামী দলের সঙ্গে জোট করে ২৯৩টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ৩২টি আসন পায় দলটি।ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ২৯৩ আসনে প্রার্থী দিয়ে পেয়েছিল ১৬.৪০ শতাংশ ভোট।২০০১ সনে জাতীয় পার্টি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে জোট গঠন করে ২৮১ আসনে প্রার্থী দিয়ে ৭.২৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। প্রাপ্ত সিট ১৪! ২০০৮ সনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে ৪৯টি আসনে প্রার্থী দিয়ে আসন পায় ২৭টি। শতকরা হার ৭।

মানে দাড়াইলো যে কোন পরিস্থিতিতে জাতীয় পার্টি তার বাক্সে নূন্যতম ৭%!

পরিসংখ্যান বলে যে এই জাতীয় পার্টির নূন্যতম ৭% যদি আওয়ামী লীগের নূন্যতম ৩০.০৮% এর সাথে যুক্ত হয় তাহলে সেটা হয় ৩৭.০৮% যা জামায়াত-বিএনপি নুন্যতম ৩৫.০৯% এর চেয়ে বেশি।

এবার দেখার পালা এই অংকের খেলা কোথায় গিয়ে শেষ হয়! এই নূন্যতম ভোটের অংক বাদ দিলে বাকি থাকে সুইং ভোটার যা প্রায় ২৫%; মূল খেলা এখানেই হবে। যারা এদের ভোট টানবে তারাই জয়ী হবে।

একাদশ জাতীয় সংসদঃ বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে কেমন হতে পারে সমীকরণ?

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে লিখেছিলাম। লিখেছিলাম আগামী নির্বাচনে বিএনপি আসবে না। এক বন্ধু ইনবক্সে বললো, বুঝলাম বিএনপি আসবে না! তোমার এনালাইসিস ঠিক আছে। এখন একটা এনালাইসিস দাও যদি বিএনপি নির্বাচনে আসে।

বিএনপি যদি নির্বাচনে আসে এবং জামায়াতের সাথে জোট করে তাহলে তারা কতোগুলো আসনে জিতবে এটা নির্ভর করবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীতা সিলেক্সন কেমন হবে সেটার উপর।

আওয়ামী লীগের ১০০ থেকে ১৩০ টি আসনে জয় আটকানোর মতো বিএনপির কোন প্রার্থী নেই। বাকি থাকলো ১৭০ থেকে ২০০ আসন। এসব স্থানে আওয়ামী লীগকে জিততে হলে নতুন মুখ দিতে হবে। বর্তমান এমপিদের দিলে ধরা খাওয়ার চান্স আছে।

বিএনপির ধারনা তাদেরকে লোকে ঠিকই ভোট দিবে কিন্তু সেগুলা ঠিকমতো কাউন্ট হবে না। এটা আসলে ভুল ধারনা। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তি ও মিডিয়ার স্বর্ণযুগে ভোট কারচুপির কোন সুযোগ থাকলেও সেগুলা ধামাচাপা দেওয়ার সুযোগ কম। তবে বিএনপির যদি সেন্টারে সেন্টারে তাদের এজেন্টই দেওয়ার মতো কর্মী না থাকে তাহলে তো দুঃখের কথা।

মোট কথা বিএনপি নির্বাচনে আসলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। বলা মুসকিল কে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। তবে আওয়ামী লীগ ১৬০-১৭০ টি আসন জিতে ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

বিএনপি’র একটা সম্ভাবনাই আছে যদি তারা জামায়াত ছেড়ে ৩০০ আসনের ২৫০-২৭০ টি আসনে রাজনৈতিক মাঠে একদম ফ্রেস এবং ইয়ং এডুকেটেড স্মার্ট প্রার্থী দিতে পারে। আগে বিএনপি করেছে এমন যেকোন প্রার্থী খুব সহজেই ভোটের মাঠে পরাজিত হবে। ফ্রেস প্রার্থী দিলে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠ  আসনে জিতে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে!

দেখা যাক কি হয়- সময় তো আর বেশি নাই। তবে আমার বাজি আওয়ামী লীগেই৷ রাজনৈতিকভাবে বিএনপি এতো দেউলিয়া যে জামায়াতের সহযোগিতায় এরা যতোই আগানোর চেষ্ঠা করবে ততই যুবক প্রজন্ম তাদের প্রত্যাখান করবে।

বিএনপি যেহেতু আর কোনদিন জামায়াতকে ছাড়তে পারবে না, কাজেই বিএনপি’র রাজনীতি ও কোনদিন দেশের শাষনভার পাবে না।

কি হতে পারে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে?

পরিচিত অনেকেই জিজ্ঞেস করে, আগামী নির্বাচনে কি হতে যাচ্ছে? বিএনপি কি নির্বাচনে আসবে? না আসলে আওয়ামী লীগ কি একাই নির্বাচন করবে? রাজনৈতিক মহলে এগুলা কমন প্রশ্ন মুখে মুখে।

যেহেতু রাজনীতিতে আছি এবং নানা ধরনের লোকের সাথে কথা বার্তা হয় তাই আমি ব্যক্তিগত ভাবে কিছু এসেসমেন্ট করেছি। সেগুলা একটু বলি, পরে মিলাইয়া নিতে পারেন।

বিএনপি আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসবে না। তাদের ধারণা নির্বাচনের দুই একদিন আগে দেশে সাধারণ মানুষের নামে বিশাল মুভমেন্ট হবে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যাবে এমন কিছু। অথবা নির্বাচন হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেও বেশিদিন ঠিকবে না। দ্বাদশ নির্বাচনে বিএনপি এসে জয়ী হয়ে যাবে। আমার ধারণা বিএনপি তাদের রাজনীতির কবর রচনা করতে যাচ্ছে। কারণ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি ছাড়াই সুন্দরভাবে হবে এবং আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে আরো ৫ বছর কাটিয়ে দিবে। বিএনপি যেখানে ভুল করছে সেটা হলো তাদের নেতা কর্মী এবং সাধারণ মানুষের কাছে ভুল প্রত্যাশা। এরা কোনদিন ও আর বিএনপি’র ডাকে কোন মুভমেন্টে যাবে না।

বিএনপি নির্বাচনে না আসার কারনে স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় পার্টির কপাল খুলবে। এবার কিছুটা বেশি আসন ও পাবে এবং যথারীতি বিরোধিদলে থাকবে। এতে অনেক আওয়ামী লীগ এমপির কপাল পুড়তে পারে।

চামে চিকনে বামপন্থী কিছু লোক এমপি হয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে।

বেশি কিছু আসনে আওয়ামী লীগ বনাম বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ ব্যাপক প্রতিযোগিতা হবে এবং বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ থেকে অনেক এমপি জয়ীও হবে।

বিএনপি নির্বাচন যাতে সুষ্ট না হয় কিছুটা চেষ্টা করবে তবে দিনশেষে ধুলায় অন্ধকার, কিছুই করতে পারবে না।

আপাতত এটুকুই আমার এসেসমেন্ট। বাকিটা পরে লিখবো।

আমার রাজণীতির নেশার যেখানে শুরু

রাজণীতির নেশা আমার এসেছে আসলে মা’র দিক থেকে। বাবার দিক থেকে কেউ কোনদিন রাজণীতিতে ছিলো না। আমার ৫ মামা, তিন মাসীর জন্ম হবিগঞ্জ শহরে, রামকৃষ্ণ মিশনের পাশে এখন যে ‘ছবর মঞ্জিল’ এটাই ছিলো আমার মা’দের বাসা। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সবাই চলে যায় ভারতে। একমাত্র আমার মা থেকে যান দেশে।

আমার বড়ো মাসী ৬০-৭০ দশকে বৃন্দাবন সরকারী কলেজে ছাত্র রাজনীতি করতেন। একবার ছাত্র সংসদে জিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখনকার সময়ে একজন নারী নেত্রী। মাসী এখনো জীবিত আছেন, থাকেন আসামের লামডিং। সেই মা মাসীদের জিন থেকেই আমার রক্তে এসেছে রাজনীতি।

হবিগঞ্জ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের আমার বন্ধুরা জানে আমি যখন ক্লাস নাইনের জীববিজ্ঞানের পরীক্ষার খাতায় ডিগ্রী ক্লাসের বই থেকে উত্তর লিখতাম, অজিত স্যার কাছে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞেস করতেন, ডিগ্রীর ক্লাসের উত্তর দেওয়ার কি দরকার! তুমি এমনি ভালো করবে।

বৃন্দাবন কলেজে কেমেস্ট্রির সুধাংশু স্যার যখন হাতে বেতের বারি দিয়ে বলতেন, তুই তো সেকেন্ড ইয়ারেই উঠতে পারবি না! সেই আমিই কলেজের একমাত্র স্টার মার্ক নিয়ে ইণ্টার পাশ করে বের হয়েছি।

ভার্সিটির গল্প আরেকদিন করবো।

এখন ইউকে’তে একজন ইনকর্পোরেটেড সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়া সত্বেও আমাকে কোন ভুতে ধরেছে যে আমাকেই দেশে গিয়ে রাজণীতিবিদ হতে হবে! ঐ যে বললাম রাজনীতির নেশা। এই নেশাই কাল হলো।

ভাবছি মাসীর সাথে একবার কথা বলবো। পুরনো কিছু গল্প শুনবো। শুনবো কিভাবে মেরুদণ্ড সোজা করে রাজনীতি কর‍তে হয়। কারো আন্ডারওয়ার হয়ে নয়!

বঙ্গবন্ধু’র ‘কারাগারের রোজনামচা’!

jail
আজকে আমরা যারা রাজনীতি করি তারা একটা মামলা খেলেই হতাশ হয়ে পড়ি! কিন্তু আমরা কি জানি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর রাজনৈতিক জীবনে কতোবার এবং কতো বছর জেলে থেকেছেন? আসুন জেনে নেই। তাহলে এখনকার রাজনীতিবিদদের কারাগারভীতি কিছুটা যদি কমে!

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর রাজনৈতিক জীবনে ৪ হাজার ৬৮২ দিন অর্থাৎ ১৪ বছর কারাভোগ করেছেন। এর মধ্যে স্কুলের ছাত্র অবস্থায় ব্রিটিশ আমলে সাত দিন কারা ভোগ করেন। বাকি ৪ হাজার ৬৭৫ দিন তিনি কারাভোগ করেন পাকিস্তান সরকারের আমলে।

হ্যাঁ, বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের ১৪টি বছর কারাগারে ছিলেন।

১/ তিনি ১৯৩৮ সালে প্রথম কারাগারে যান।

২/ ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত তিনি পাঁচ দিন কারাগারে ছিলেন।

৩/একই বছর ১১ সেপ্টেম্বর আটক হয়ে মুক্তি পান ১৯৪৯ সালের ২১ জানুয়ারি। এ দফায় তিনি ১৩২ দিন কারাভোগ করেন।

৪/১৯৪৯ সালের ১৯ এপ্রিল আবারও কারাগারে গিয়ে ৮০ দিন কারাভোগ করে মুক্তি পান ২৮ জুন। ওই দফায় তিনি ২৭ দিন কারাভোগ করেন।

৫/একই বছরের ১৯৪৯ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬৩ দিন এবং

৬/১৯৫০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯৫২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি টানা ৭৮৭ দিন কারাগারে ছিলেন।

৭/১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পরও বঙ্গবন্ধুকে কারাগারে যেতে হয়। তিনি বলেন, সে সময়ে বঙ্গবন্ধু ২০৬ দিন কারা ভোগ করেন।

৮/১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক আইন জারির পর বঙ্গবন্ধু ১১ অক্টোবর গ্রেপ্তার হন। এ সময়ে টানা ১ হাজার ১৫৩ দিন তাঁকে কারাগারে কাটাতে হয়।

৯/১৯৬২ সালের ৬ জানুয়ারি আবারও গ্রেপ্তার হয়ে মুক্তি পান ওই বছরের ১৮ জুন। এ দফায় তিনি কারাভোগ করেন ১৫৮ দিন।

১০/এরপর ’৬৪ ও ’৬৫ সালে বিভিন্ন মেয়াদে তিনি ৬৬৫ দিন কারাগারে ছিলেন। ছয় দফা দেওয়ার পর জাতির পিতা যেখানে সমাবেশ করতে গেছেন, সেখানেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। ওই সময়ে তিনি ৩২টি জনসভা করে বিভিন্ন মেয়াদে ৯০ দিন কারাভোগ করেন।

১১/৬৬ সালের ৮ মে আবারও গ্রেপ্তার হয়ে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মুক্তি পান। এ সময় তিনি ১ হাজার ২১ দিন কারাগারে ছিলেন।

১২/১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই পাকিস্তান সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এ দফায় তিনি কারাগারে ছিলেন ২৮৮ দিন।

পাকিস্তানের ২৩ বছরের শাসনকালে বঙ্গবন্ধু ১৮ বার জেলে গেছেন, মোট সাড়ে ১১ বছর জেলে কাটিয়েছেন, মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন দুবার। বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত ঘটনাপঞ্জি বিবৃত করা হয়েছে। ১৯৬৬-৬৯ সালে কারাগারে থাকাকালে তিনি তাঁর এই ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ রচনা করেছেন। তাঁর এই অসাধারণ কাজটি করার পেছনে মূল চালিকাশক্তি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী বেগম ফজিলাতুননেসা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর কাছে তিনি রেণু। উচ্চ শিক্ষিত না হয়েও বঙ্গবন্ধুর জীবন ও যৌবনের কিছু কথা লিখে যাওয়ার তাগিদ তিনি অনুভব করেছেন এবং সেভাবে স্বামীকে তিনি উৎসাহ জুগিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং লেখার জন্য খাতা কিনে দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে লিখতে অনুপ্রাণিত করেছেন।

বেগম মুজিব তাঁর অসাধারণ কাজটি পরবর্তীকালে বঙ্গবন্ধুকে যখন ১৯৬৬ সালে ছয় দফা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার করা হয় তখনো চালু রেখেছেন। নিয়মিত তাঁর স্বামীকে লেখার জন্য খাতা সরবরাহ করেছেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির অত্যন্ত এক ক্রান্তিকালে কারাগারে বসে তাঁর দিনলিপি লেখার চেষ্টা করেছেন, যা বেগম মুজিব সযত্নে সংরক্ষণ করেছেন।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু পরিবারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর দুই কিস্তিতে বঙ্গবন্ধুকন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি থেকে খাতাগুলো উদ্ধার করেন, যা কয়েক দিন আগে বাংলা একাডেমি ‘কারাগারের রোজনামচা’ হিসেবে প্রকাশ করেছে। বঙ্গবন্ধু বইটির মূল নাম দিয়েছিলেন ‘থালা বাটি কম্বল, জেলখানার সম্বল’। এটি একনাগাড়ে পড়ার মতো একটি বই-ই শুধু নয়, একজন মহামানবের একটি অসাধারণ মানবিক দলিলও বটে।

সবাইকে অনুরোধ করবো এই ‘কারাগারের রোজনামচা’ বারবার পড়ার জন্য।