পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের তিন রাজনৈতিক দল- কার অবস্থান কি?

নির্বাচন হলো অংকের খেলা। পরিসংখ্যানের খেলা। এখানে উন্নয়ন, দূর্নীতি তেমন ভূমিকা রাখে বলে মনে হয় না। আমরা যারা ডাটা নিয়ে কাজ করি তাদের কাছে এই অংকটাই আসল।

আমি সেদিন বলছিলাম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মোট প্রাপ্ত ভোট কোনদিন কমে নাই। এটা ১৯৯১ থেকে ক্রমাগত বেড়েই চলছে।

১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে কাস্ট হওয়া ভোটের ৩০.০৮ শতাংশ পায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে দলটির ভোট ৭ শতাংশ বেড়ে ৩৭.৪৪ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০০১ সালের নির্বাচনে দলটির ভোট ৩ শতাংশ বেড়ে ৪০.১৩ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোট আরও প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ৪৮.০৪ শতাংশে দাঁড়ায়।

চলুন দেখি এবার জামায়াত-বিএনপির কি অবস্থা!

বিএনপির ভোট কখনো বেড়েছে, কখনো কমেছে। আর জামায়াতের ভোট ধারাবাহিকভাবে কমেছে। জাতীয় পার্টির ভোট ও ধারাবাহিক ভাবে কমতির দিকেই।

১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে কাস্ট হওয়া ভোটের ৩০.৮১ শতাংশ পায় বিএনপি। ওই বছর তারা ১৪০টি আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে দলটির ভোট ৩ শতাংশ বেড়ে ৩৩.৬০ শতাংশে দাঁড়ায়। ওই বছর ১১৬ আসন নিয়ে বিরোধী দল হয় তারা। এর পর ২০০১ সালের নির্বাচনে ৭ শতাংশ বেড়ে ৪০.৯৭ শতাংশে দাঁড়ায় বিএনপির ভোট। সে বছর তারা ১৯৩ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রাপ্ত ভোট ৮ শতাংশ কমে ৩২.৫০ শতাংশে দাঁড়ায়। এ দফায় তারা মাত্র ৩০ আসন পেলেও বিরোধী দল হয়।

জামায়াতের অবস্থাটা দেখি এবার। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে কাস্ট হওয়া মোট ভোটের ১২.১৩ শতাংশ পায় তারা। আসন পায় ১৮টি। এর পর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিতর্কিত এই রাজনৈতিক দলটির ভোট ৪ শতাংশ কমে ৮.৬১ শতাংশে দাঁড়ায়। সেবার তারা আসন পায় মাত্র ৩টি। ২০০১ সালের নির্বাচনে আরও ৪ শতাংশ কমে তাদের ভোট দাঁড়ায় ৪.২৮ শতাংশে। ভোট কম পেলেও জোটের কল্যাণে সে বছর তারা ১৭টি আসনে বিজয়ী হয়। এর পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে কাস্ট হওয়া মোট ভোটের ৪.৭০ শতাংশ পেলেও আসন পায় মাত্র ২টি।

এই সরল পরিসংখ্যান থেকে এটা সহজেই বুঝা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশে বিএনপির ৩০.৮১% এবং জামায়াতের ৪.২৮% নূন্যতম ভোট আছে। যেহেতু যা জামায়াত তাই বিএনপি এই ৩৫.০৯% ভোট বিএনপির বাক্সে পড়বেই।

আমরা দেখি যেকোন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নূন্যতম ভোট ৩০.০৮%!

বিষয়টা কি দাড়াইলো তাহলে? চলুন দেখে আসি জাতীয় পার্টির বাক্সে কি আছে?

১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত ৫ম জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সর্বমোট ২৭২টি আসনে প্রার্থী দেয়। এতে মাত্র ৩৫টি আসন পায় এরশাদের দল। সেই নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের মধ্যে মাত্র ১১ শতাংশ ভোট পায় জাতীয় পার্টি।১৯৯৬ সালের ৬ষ্ঠ নির্বাচনে কয়েকটি ইসলামী দলের সঙ্গে জোট করে ২৯৩টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ৩২টি আসন পায় দলটি।ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ২৯৩ আসনে প্রার্থী দিয়ে পেয়েছিল ১৬.৪০ শতাংশ ভোট।২০০১ সনে জাতীয় পার্টি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে জোট গঠন করে ২৮১ আসনে প্রার্থী দিয়ে ৭.২৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। প্রাপ্ত সিট ১৪! ২০০৮ সনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে ৪৯টি আসনে প্রার্থী দিয়ে আসন পায় ২৭টি। শতকরা হার ৭।

মানে দাড়াইলো যে কোন পরিস্থিতিতে জাতীয় পার্টি তার বাক্সে নূন্যতম ৭%!

পরিসংখ্যান বলে যে এই জাতীয় পার্টির নূন্যতম ৭% যদি আওয়ামী লীগের নূন্যতম ৩০.০৮% এর সাথে যুক্ত হয় তাহলে সেটা হয় ৩৭.০৮% যা জামায়াত-বিএনপি নুন্যতম ৩৫.০৯% এর চেয়ে বেশি।

এবার দেখার পালা এই অংকের খেলা কোথায় গিয়ে শেষ হয়! এই নূন্যতম ভোটের অংক বাদ দিলে বাকি থাকে সুইং ভোটার যা প্রায় ২৫%; মূল খেলা এখানেই হবে। যারা এদের ভোট টানবে তারাই জয়ী হবে।

Advertisements

একাদশ জাতীয় সংসদঃ বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে কেমন হতে পারে সমীকরণ?

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে লিখেছিলাম। লিখেছিলাম আগামী নির্বাচনে বিএনপি আসবে না। এক বন্ধু ইনবক্সে বললো, বুঝলাম বিএনপি আসবে না! তোমার এনালাইসিস ঠিক আছে। এখন একটা এনালাইসিস দাও যদি বিএনপি নির্বাচনে আসে।

বিএনপি যদি নির্বাচনে আসে এবং জামায়াতের সাথে জোট করে তাহলে তারা কতোগুলো আসনে জিতবে এটা নির্ভর করবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীতা সিলেক্সন কেমন হবে সেটার উপর।

আওয়ামী লীগের ১০০ থেকে ১৩০ টি আসনে জয় আটকানোর মতো বিএনপির কোন প্রার্থী নেই। বাকি থাকলো ১৭০ থেকে ২০০ আসন। এসব স্থানে আওয়ামী লীগকে জিততে হলে নতুন মুখ দিতে হবে। বর্তমান এমপিদের দিলে ধরা খাওয়ার চান্স আছে।

বিএনপির ধারনা তাদেরকে লোকে ঠিকই ভোট দিবে কিন্তু সেগুলা ঠিকমতো কাউন্ট হবে না। এটা আসলে ভুল ধারনা। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তি ও মিডিয়ার স্বর্ণযুগে ভোট কারচুপির কোন সুযোগ থাকলেও সেগুলা ধামাচাপা দেওয়ার সুযোগ কম। তবে বিএনপির যদি সেন্টারে সেন্টারে তাদের এজেন্টই দেওয়ার মতো কর্মী না থাকে তাহলে তো দুঃখের কথা।

মোট কথা বিএনপি নির্বাচনে আসলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। বলা মুসকিল কে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। তবে আওয়ামী লীগ ১৬০-১৭০ টি আসন জিতে ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

বিএনপি’র একটা সম্ভাবনাই আছে যদি তারা জামায়াত ছেড়ে ৩০০ আসনের ২৫০-২৭০ টি আসনে রাজনৈতিক মাঠে একদম ফ্রেস এবং ইয়ং এডুকেটেড স্মার্ট প্রার্থী দিতে পারে। আগে বিএনপি করেছে এমন যেকোন প্রার্থী খুব সহজেই ভোটের মাঠে পরাজিত হবে। ফ্রেস প্রার্থী দিলে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠ  আসনে জিতে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে!

দেখা যাক কি হয়- সময় তো আর বেশি নাই। তবে আমার বাজি আওয়ামী লীগেই৷ রাজনৈতিকভাবে বিএনপি এতো দেউলিয়া যে জামায়াতের সহযোগিতায় এরা যতোই আগানোর চেষ্ঠা করবে ততই যুবক প্রজন্ম তাদের প্রত্যাখান করবে।

বিএনপি যেহেতু আর কোনদিন জামায়াতকে ছাড়তে পারবে না, কাজেই বিএনপি’র রাজনীতি ও কোনদিন দেশের শাষনভার পাবে না।

কি হতে পারে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে?

পরিচিত অনেকেই জিজ্ঞেস করে, আগামী নির্বাচনে কি হতে যাচ্ছে? বিএনপি কি নির্বাচনে আসবে? না আসলে আওয়ামী লীগ কি একাই নির্বাচন করবে? রাজনৈতিক মহলে এগুলা কমন প্রশ্ন মুখে মুখে।

যেহেতু রাজনীতিতে আছি এবং নানা ধরনের লোকের সাথে কথা বার্তা হয় তাই আমি ব্যক্তিগত ভাবে কিছু এসেসমেন্ট করেছি। সেগুলা একটু বলি, পরে মিলাইয়া নিতে পারেন।

বিএনপি আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসবে না। তাদের ধারণা নির্বাচনের দুই একদিন আগে দেশে সাধারণ মানুষের নামে বিশাল মুভমেন্ট হবে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যাবে এমন কিছু। অথবা নির্বাচন হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেও বেশিদিন ঠিকবে না। দ্বাদশ নির্বাচনে বিএনপি এসে জয়ী হয়ে যাবে। আমার ধারণা বিএনপি তাদের রাজনীতির কবর রচনা করতে যাচ্ছে। কারণ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি ছাড়াই সুন্দরভাবে হবে এবং আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে আরো ৫ বছর কাটিয়ে দিবে। বিএনপি যেখানে ভুল করছে সেটা হলো তাদের নেতা কর্মী এবং সাধারণ মানুষের কাছে ভুল প্রত্যাশা। এরা কোনদিন ও আর বিএনপি’র ডাকে কোন মুভমেন্টে যাবে না।

বিএনপি নির্বাচনে না আসার কারনে স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় পার্টির কপাল খুলবে। এবার কিছুটা বেশি আসন ও পাবে এবং যথারীতি বিরোধিদলে থাকবে। এতে অনেক আওয়ামী লীগ এমপির কপাল পুড়তে পারে।

চামে চিকনে বামপন্থী কিছু লোক এমপি হয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে।

বেশি কিছু আসনে আওয়ামী লীগ বনাম বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ ব্যাপক প্রতিযোগিতা হবে এবং বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ থেকে অনেক এমপি জয়ীও হবে।

বিএনপি নির্বাচন যাতে সুষ্ট না হয় কিছুটা চেষ্টা করবে তবে দিনশেষে ধুলায় অন্ধকার, কিছুই করতে পারবে না।

আপাতত এটুকুই আমার এসেসমেন্ট। বাকিটা পরে লিখবো।

আমার রাজণীতির নেশার যেখানে শুরু

রাজণীতির নেশা আমার এসেছে আসলে মা’র দিক থেকে। বাবার দিক থেকে কেউ কোনদিন রাজণীতিতে ছিলো না। আমার ৫ মামা, তিন মাসীর জন্ম হবিগঞ্জ শহরে, রামকৃষ্ণ মিশনের পাশে এখন যে ‘ছবর মঞ্জিল’ এটাই ছিলো আমার মা’দের বাসা। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সবাই চলে যায় ভারতে। একমাত্র আমার মা থেকে যান দেশে।

আমার বড়ো মাসী ৬০-৭০ দশকে বৃন্দাবন সরকারী কলেজে ছাত্র রাজনীতি করতেন। একবার ছাত্র সংসদে জিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখনকার সময়ে একজন নারী নেত্রী। মাসী এখনো জীবিত আছেন, থাকেন আসামের লামডিং। সেই মা মাসীদের জিন থেকেই আমার রক্তে এসেছে রাজনীতি।

হবিগঞ্জ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের আমার বন্ধুরা জানে আমি যখন ক্লাস নাইনের জীববিজ্ঞানের পরীক্ষার খাতায় ডিগ্রী ক্লাসের বই থেকে উত্তর লিখতাম, অজিত স্যার কাছে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞেস করতেন, ডিগ্রীর ক্লাসের উত্তর দেওয়ার কি দরকার! তুমি এমনি ভালো করবে।

বৃন্দাবন কলেজে কেমেস্ট্রির সুধাংশু স্যার যখন হাতে বেতের বারি দিয়ে বলতেন, তুই তো সেকেন্ড ইয়ারেই উঠতে পারবি না! সেই আমিই কলেজের একমাত্র স্টার মার্ক নিয়ে ইণ্টার পাশ করে বের হয়েছি।

ভার্সিটির গল্প আরেকদিন করবো।

এখন ইউকে’তে একজন ইনকর্পোরেটেড সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়া সত্বেও আমাকে কোন ভুতে ধরেছে যে আমাকেই দেশে গিয়ে রাজণীতিবিদ হতে হবে! ঐ যে বললাম রাজনীতির নেশা। এই নেশাই কাল হলো।

ভাবছি মাসীর সাথে একবার কথা বলবো। পুরনো কিছু গল্প শুনবো। শুনবো কিভাবে মেরুদণ্ড সোজা করে রাজনীতি কর‍তে হয়। কারো আন্ডারওয়ার হয়ে নয়!

বঙ্গবন্ধু’র ‘কারাগারের রোজনামচা’!

jail
আজকে আমরা যারা রাজনীতি করি তারা একটা মামলা খেলেই হতাশ হয়ে পড়ি! কিন্তু আমরা কি জানি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর রাজনৈতিক জীবনে কতোবার এবং কতো বছর জেলে থেকেছেন? আসুন জেনে নেই। তাহলে এখনকার রাজনীতিবিদদের কারাগারভীতি কিছুটা যদি কমে!

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর রাজনৈতিক জীবনে ৪ হাজার ৬৮২ দিন অর্থাৎ ১৪ বছর কারাভোগ করেছেন। এর মধ্যে স্কুলের ছাত্র অবস্থায় ব্রিটিশ আমলে সাত দিন কারা ভোগ করেন। বাকি ৪ হাজার ৬৭৫ দিন তিনি কারাভোগ করেন পাকিস্তান সরকারের আমলে।

হ্যাঁ, বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের ১৪টি বছর কারাগারে ছিলেন।

১/ তিনি ১৯৩৮ সালে প্রথম কারাগারে যান।

২/ ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত তিনি পাঁচ দিন কারাগারে ছিলেন।

৩/একই বছর ১১ সেপ্টেম্বর আটক হয়ে মুক্তি পান ১৯৪৯ সালের ২১ জানুয়ারি। এ দফায় তিনি ১৩২ দিন কারাভোগ করেন।

৪/১৯৪৯ সালের ১৯ এপ্রিল আবারও কারাগারে গিয়ে ৮০ দিন কারাভোগ করে মুক্তি পান ২৮ জুন। ওই দফায় তিনি ২৭ দিন কারাভোগ করেন।

৫/একই বছরের ১৯৪৯ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬৩ দিন এবং

৬/১৯৫০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯৫২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি টানা ৭৮৭ দিন কারাগারে ছিলেন।

৭/১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পরও বঙ্গবন্ধুকে কারাগারে যেতে হয়। তিনি বলেন, সে সময়ে বঙ্গবন্ধু ২০৬ দিন কারা ভোগ করেন।

৮/১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক আইন জারির পর বঙ্গবন্ধু ১১ অক্টোবর গ্রেপ্তার হন। এ সময়ে টানা ১ হাজার ১৫৩ দিন তাঁকে কারাগারে কাটাতে হয়।

৯/১৯৬২ সালের ৬ জানুয়ারি আবারও গ্রেপ্তার হয়ে মুক্তি পান ওই বছরের ১৮ জুন। এ দফায় তিনি কারাভোগ করেন ১৫৮ দিন।

১০/এরপর ’৬৪ ও ’৬৫ সালে বিভিন্ন মেয়াদে তিনি ৬৬৫ দিন কারাগারে ছিলেন। ছয় দফা দেওয়ার পর জাতির পিতা যেখানে সমাবেশ করতে গেছেন, সেখানেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। ওই সময়ে তিনি ৩২টি জনসভা করে বিভিন্ন মেয়াদে ৯০ দিন কারাভোগ করেন।

১১/৬৬ সালের ৮ মে আবারও গ্রেপ্তার হয়ে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মুক্তি পান। এ সময় তিনি ১ হাজার ২১ দিন কারাগারে ছিলেন।

১২/১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই পাকিস্তান সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এ দফায় তিনি কারাগারে ছিলেন ২৮৮ দিন।

পাকিস্তানের ২৩ বছরের শাসনকালে বঙ্গবন্ধু ১৮ বার জেলে গেছেন, মোট সাড়ে ১১ বছর জেলে কাটিয়েছেন, মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন দুবার। বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত ঘটনাপঞ্জি বিবৃত করা হয়েছে। ১৯৬৬-৬৯ সালে কারাগারে থাকাকালে তিনি তাঁর এই ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ রচনা করেছেন। তাঁর এই অসাধারণ কাজটি করার পেছনে মূল চালিকাশক্তি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী বেগম ফজিলাতুননেসা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর কাছে তিনি রেণু। উচ্চ শিক্ষিত না হয়েও বঙ্গবন্ধুর জীবন ও যৌবনের কিছু কথা লিখে যাওয়ার তাগিদ তিনি অনুভব করেছেন এবং সেভাবে স্বামীকে তিনি উৎসাহ জুগিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং লেখার জন্য খাতা কিনে দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে লিখতে অনুপ্রাণিত করেছেন।

বেগম মুজিব তাঁর অসাধারণ কাজটি পরবর্তীকালে বঙ্গবন্ধুকে যখন ১৯৬৬ সালে ছয় দফা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার করা হয় তখনো চালু রেখেছেন। নিয়মিত তাঁর স্বামীকে লেখার জন্য খাতা সরবরাহ করেছেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির অত্যন্ত এক ক্রান্তিকালে কারাগারে বসে তাঁর দিনলিপি লেখার চেষ্টা করেছেন, যা বেগম মুজিব সযত্নে সংরক্ষণ করেছেন।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু পরিবারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর দুই কিস্তিতে বঙ্গবন্ধুকন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি থেকে খাতাগুলো উদ্ধার করেন, যা কয়েক দিন আগে বাংলা একাডেমি ‘কারাগারের রোজনামচা’ হিসেবে প্রকাশ করেছে। বঙ্গবন্ধু বইটির মূল নাম দিয়েছিলেন ‘থালা বাটি কম্বল, জেলখানার সম্বল’। এটি একনাগাড়ে পড়ার মতো একটি বই-ই শুধু নয়, একজন মহামানবের একটি অসাধারণ মানবিক দলিলও বটে।

সবাইকে অনুরোধ করবো এই ‘কারাগারের রোজনামচা’ বারবার পড়ার জন্য।

স্ত্রী আফিয়া খাতুনের উচ্চাভিলাস আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক’কে হারিয়ে দিয়েছিলো !

আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হকের ফাইল ফটো

আজ ২৩ জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। সারাদিন এক ষড়যন্ত্রের শেকড় খুঁজার কাজে ব্যস্ত ছিলাম তাই কম্পিউটারে বসতে পারিনি। কয়েকদিন ধরেই ভাবছিলাম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকির এই দিনে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হকের কিছু কথা লিখবো।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর থেকেই পূর্ব বাংলার জনগন তখনকার সরকারী দল মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে চেতনাগতভাবে সংঘবদ্ধ হতে শুরু হয়েছিলো। এর প্রথম সরব প্রমান দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক ১৯৪৯ সালের মার্চ/এপ্রিলে টাঙ্গাইলের উপনির্বাচনে মুসলিম লীগের প্রার্থী করটিয়ার জমিদার খুররম খান পন্নীকে পরাজিত করার মাধ্যমে।

জানা যায়, রটিয়ার জমিদার খুররম খান পন্নী। একজন নিপাট প্রজাপ্রিয় ভদ্রলোক। প্রজা নিপীড়ন বা নির্যাতনের কোনো অভিযোগ ছিল না তার নামে। আবার আচরণে নিখুঁত বিনয়ী। তার বিরুদ্ধে শামসুল হক কোনো বিবেচনাযোগ্য প্রার্থী ছিলেন না। খুররম খান পন্নী তার নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতা করার জন্য মাইক নিয়ে এসেছিলেন। টাঙ্গাইলের মানুষ এর আগে কখনো মাইক দেখেনি। একজন মানুষ কথা বললে তাকে শতগুণ মণ্ডিত হয়ে দূরের মানুষের কাছেও পেঁৗছায়, তা এই প্রথম দেখল তারা। করটিয়া সাদাত কলেজের মাঠে সেই সভায় হাজার মানুষের ভিড়। মাঠের এক কোনায় বসেছিলেন শামসুল হক। জমিদার সাহেবের কথা শেষ হওয়ার পর তিনি ধীরে ধীরে গেলেন মঞ্চের ওপর। জমিদার পন্নীকে বললেন, হুজুর এই নির্বাচনে আমিও একজন প্রার্থী। কিন্তু আমার তো আপনার মতো টাকা নেই। আপনার মতো মাইক পাব কোথায়? যদি আমাকে অনুমতি দেন তাহলে এই মাইকে আমি আমার নিজের দুটি কথা বলতে পারি। তিনি বললেন, হ্যাঁ, হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। কেন নয়।

শামসুল হক একজন জ্ঞানী মানুষ ছিলেন। লেখাপড়া জানতেন। ইংরেজি বাংলা উভয় ভাষায় লিখতে এবং বলতে পারদর্শী ছিলেন। নিজেই নিজের দলের ম্যানিফেস্টো লিখেছিলেন এবং খুব ভালো বক্তৃতাও করতে পারতেন। মাইক নিয়ে তিনি প্রথমেই ভূয়সী প্রশংসা করলেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী খুররম খান পন্নীর। কৃতজ্ঞতা জানালেন প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়া সত্ত্বেও তার মতো একজন সাধারণ মানুষকে জমিদার সাহেব মাইক ব্যবহার করতে দিয়েছেন তার জন্য। তারপর তার মূল কথায় এলেন। শামসুল হক বললেন, জমিদার খুররম খান পন্নীর বিরুদ্ধে আমি প্রার্থী নই। তার মতো ভালো মানুষের বিরুদ্ধে আমার কোনো বক্তব্য নেই। আমার লড়াই মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে। আমি মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছি। শামসুল হকের সেই বক্তৃতার কোনো ডকুমেন্ট আজ কারও কাছে নেই। কিন্তু অসাধারণ বক্তৃতা করেছিলেন তিনি। খুররম খান পন্নীর জনসভায় আসা মানুষও শামসুল হকের বক্তৃতা শুনে জেগে উঠেছিলেন। ভোট দিয়েছে শামসুল হককে। বিশাল ভোটের ব্যবধানে খুররম খান পন্নী পরাজিত হন।

শামসুল হকের এই বিজয় মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে পূর্ববাংলার জনগণের প্রথম রায়। টাঙ্গাইলের উপনির্বাচনের বিজয় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠায় বিশাল, উর্বর একটি জমি তৈরি হয়েছিল এবং শামসুল হক এই জমি ও তার ওপর বাড়ি নির্মাণে অন্যতম কারিগর ছিলেন।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন বিকেল তিনটায় ঢাকার কে এম দাস লেনের ‘রোজ গার্ডেনে’ সম্মেলন শুরু হলো। উপস্থিত ২৫০ থেকে ৩০০ জন। আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে শুরু হলো সম্মেলন। তাঁরা আলাপ-আলোচনা করে তৈরি করলেন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’। নামকরণ করলেন ভাসানী স্বয়ং। তাঁদের যুক্তি ছিল, তাঁরা সবাই মুসলিম লীগার। তবে আকরাম খাঁ-নুরুল আমীনদের মুসলিম লীগ হলো সরকারি মুসলিম লীগ, তাঁদেরটা হবে আওয়ামের অর্থাৎ জনগণের মুসলিম লীগ। তাঁদের লক্ষ্য হলো, ‘স্বার্থান্বেষী মুষ্টিমেয় লোকদের পকেট হইতে বাহির করিয়া সত্যিকার জনগণের মুসলিম লীগ গড়ে তোলা।’

মাওলানা ভাসানীকে সভাপতি, শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক এবং ইয়ার মোহাম্মদ খানকে কোষাধ্যক্ষ করে নতুন দলের ৪০ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি তৈরি করা হয়। তরুণ সংগঠকদের অন্যতম শেখ মুজিবুর রহমান তখন কারাগারে। ভাসানীর আগ্রহ ও ইচ্ছায় তাঁকে দলের যুগ্ম সম্পাদক বানানো হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ পদ তৈরি হয়েছিল শেখ মুজিবের কথা মনে রেখেই।

১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষে জেল থেকে বেরিয়ে শেখ মুজিব ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন এবং ১৯৫৩ সালে অনুষ্ঠিত দলের কাউন্সিল অধিবেশনে পুরোদস্তুর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। যুগ্ম সম্পাদক পদটি বিলুপ্ত হয়। শেখ মুজিব মাঠে-ঘাটে-হাটে ঘুরে ঘুরে সংগঠনটির বিস্তৃতি ঘটান। একটানা ১৩ বছর দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থেকে তিনি দলটিকে দেশের সবচেয়ে বড় ও জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে পরিচিত করাতে পেরেছিলেন।

ফিরে আসি প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের কথায়। প্রথম কিভাবে তিনি প্রেক্ষাপট থেকে হারিয়ে গেলেন! ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির পর পাকিস্তান সরকার শামসুল হক সহ কয়েকজনকে জননিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করে জেলে প্রেরণ করে। শামসুল হক জেলে থাকাকালীন সময়ে শেখ মুজিবকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

ঠিক এই পর্যায়ে এসে শামসুল হক পাকিস্তান সরকারের ঘৃন্য অত্যাচার ও পারিবারিক গুটিবাজির শিকার হন। সেই সময়কার নরসিংদির সেকান্দার মাস্টার সাহেবের কন্যা আফিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন শামসুল হক। জানা যায়, আফিয়া খাতুন একজন উচ্চাভিলাষী মহিলা ছিলেন। শামসুল হক আরও অনেক বড় হবেন। মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীও হয়ে যেতে পারেন হয়তো এই আশায় তিনি শামসুল হককে বিয়ে করেন। কিন্তু শামসুল হক জেলে যাওয়ার পরে তিনি তাকে ছেড়ে চলে যান। শেষ পর্যন্ত তিনি আমেরিকা চলে যান এবং সেখানে একজন পাকিস্তানিকে বিয়ে করেন।

শামসুল হকের এক কন্যাসন্তান ছিল, পরের ঘরে আরেক মেয়ে সন্তান হয়েছিলো বলে জানা যায়। বড় মেয়ের নাম উম্মেবতুল ফাতেমাজ জহুরা (শাহীন) এবং ছোট মেয়ের নাম উম্মেবতুল তাহেরা (সোয়েফা)। বর্তমানে তারা দুজনেই পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্ত এবং বিবাহিতা। সপরিবারে আমেরিকা বসবাস করেন। মেয়েরা একবার টাঙ্গাইলে খুঁজে পাওয়া বাবার কবর দেখতে এসেছিলেন। তাদের নাকি বলা হতো তোমাদের পিতা একজন বদ্ধ উন্মাদ, তার কাছে গেলে সে তোমাদের মেরে ফেলতে পারে।

স্ত্রী আফিয়া খাতুনের উচ্চাভিলাস এবং ক্ষমতাসীন স্বৈরাচারী সরকারের অত্যাচারে জেলখানায় শামসুল হকের মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটে। ১৯৫৩ সালে অত্যন্ত অসুস্থ শরীর এবং জটিল মানসিক ব্যাধি নিয়ে কারামুক্তি লাভ করেন।

১৯৬৪ সাল পর্যন্ত মানসিক ভারসাম্যহীন শামসুল হককে পথে পথে ঘুরতে দেখেছেন অনেকেই। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে প্রায় ১০ বছর পথে পথে ঘুরে বেরিয়েছেন তিনি। ১৯৬৫ সালে শামসুল হক হঠাৎ নিখোঁজ হন।১৯৬৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে জোকারচর গ্রামের মহিউদ্দিন আনসারী (তৎকালীন নামকরা কংগ্রেস নেতা) কলকাতা থেকে সিরাজগঞ্জ হয়ে বাড়ি ফেরার পথে কোনো এক স্থান থেকে শামসুল হককে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তখন শামসুল হক শারীরিক ও মানসিকভাবে ভীষণ অসুস্থ ছিলেন। সে সময় গ্রামের হাতেগোনা কয়েকজন সচেতন ও শিক্ষিত লোক ছাড়া শামসুল হককে কেউ চিনতেন না। অসুস্থ শামসুল হক মহিউদ্দিন আনসারীর বাড়িতে ৭ দিন থাকার পর তার হঠাৎ খুব জ্বর হয়। স্থানীয় হোমিও চিকিৎসক শুকলাল দাস শামসুল হকের চিকিৎসা করেন। প্রচণ্ড জ্বরে শামসুল হক কোন ১১ সেপ্টেম্বর রোজ শনিবার দুপুর ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে মারা যান।

শামসুল হককে টাংগাইল জেলার কালিহালি উপজেলার কদিম হামজানি গ্রামের কবরস্থানে কবর দেওয়া হয়।

অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই যে, এই শামসুল হককে কোথায় কবর দেওয়া হয়েছিলো, কিভাবে তিনি মারা গিয়েছিলেন সেটা ও ২০০৭ সালের আগে জানা ছিলো না।

আমার ইচ্ছে আছে এবার দেশে গেলেই এই প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ শামসুল হকের কবরস্থানে এক গুচ্ছ ফুল রেখে আসার।

টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি উপজেলায় বংশাই নদীর তীরে কদিম হামজানি নামক গ্রামে অবস্থিত। বর্তমানে এ মসজিদটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হিসাবে স্বীকৃত এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত একটি স্থাপনা।এই মসজিদের পাশেই রয়েছে বাংলাদেশের আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামছুল হক এর সমাধি ।

উল্লেখ্য, তিনি টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলায় এক নিভৃত গ্রাম মাইঠানে ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি ১ শামসুল হক তার মামাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

নোটঃ বিভিন্ন অনলাইন সূত্র ও পুস্তকে পাওয়া তথ্যের উপর এই লেখাটি। কোন ভুল থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো।

Sushanta Das Gupta- a social media specialist

-Working as an Independent Social Media Consultant since 2006.

-One of the co-founders of the small scale charity Secular Bangladesh Movement UK. We founded Secular Bangladesh Movement UK http://www.secularbangladeshmovement.org for serving positive values to the secularism practice in UK and specially in Bangladesh.
Working as a Social Media Manager since it was formed on 2015.

-Worked as a Social Media Co-ordinator at BRICKLANE FORTNIGHTLY LTD from Oct 2014 to Jun 2017 at UK. It runs a Printed newspaper at London and also an online TV named bricklane.tv.

-While living in UK, I founded ‘Amar MP Social Voluntary Organisation’ http://www.amarmp.com on 2017 to connect with Members of Parliament with the voters of Bangladesh to ensure accountability, transparency and neutrality among MPs. This organization also received the mBillionth Award by India’s Digital Empowerment Foundation (DEF). “Open Parliament through Digital Engagement”, of Amar MP Social Voluntary Organization, Bangladesh has been nominated in category 7 in the World Summit on the Information Society 2018 Prizes. WSIS an event that is held annually at ITU headquarters in Geneva, Switzerland.

-Editor of E-Bangladesh http://www.ebangladesh.com, having record of releasing very breaking news since 2006. The first facebook only recruit at National Union of Journalist on 2006 as an editor of E-Bangladesh.

-Founded Genocide Bangladesh Archive, http://www.genocidebangladesh.org having record of winning of National Digital Innovation Award 2010 in Bangladesh. It is an online archive of chronology of events, documentations, audio, video, images, media reports and eyewitness accounts of the 1971 Genocide in Bangladesh in the hands of Pakistan army.

-Founded the largest Bengali Community Blog Amar Blog http://www.amarblog.com since 2008 having 150K users.

-Publisher of Amarprokashoni having record of publishing 25+ books. Edited the book ‘’ On Bangladesh’’ of Mr Sajeeb Wazed, the Prime Minister son of Bangladesh.

-Producer of Amarfilm, produced a docufilm ‘’Padmaparer Gonohottya’’.