Category Archives: বাংলা ব্লগ

স্ত্রী আফিয়া খাতুনের উচ্চাভিলাস আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক’কে হারিয়ে দিয়েছিলো !

আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হকের ফাইল ফটো

আজ ২৩ জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। সারাদিন এক ষড়যন্ত্রের শেকড় খুঁজার কাজে ব্যস্ত ছিলাম তাই কম্পিউটারে বসতে পারিনি। কয়েকদিন ধরেই ভাবছিলাম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকির এই দিনে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হকের কিছু কথা লিখবো।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর থেকেই পূর্ব বাংলার জনগন তখনকার সরকারী দল মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে চেতনাগতভাবে সংঘবদ্ধ হতে শুরু হয়েছিলো। এর প্রথম সরব প্রমান দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক ১৯৪৯ সালের মার্চ/এপ্রিলে টাঙ্গাইলের উপনির্বাচনে মুসলিম লীগের প্রার্থী করটিয়ার জমিদার খুররম খান পন্নীকে পরাজিত করার মাধ্যমে।

জানা যায়, রটিয়ার জমিদার খুররম খান পন্নী। একজন নিপাট প্রজাপ্রিয় ভদ্রলোক। প্রজা নিপীড়ন বা নির্যাতনের কোনো অভিযোগ ছিল না তার নামে। আবার আচরণে নিখুঁত বিনয়ী। তার বিরুদ্ধে শামসুল হক কোনো বিবেচনাযোগ্য প্রার্থী ছিলেন না। খুররম খান পন্নী তার নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতা করার জন্য মাইক নিয়ে এসেছিলেন। টাঙ্গাইলের মানুষ এর আগে কখনো মাইক দেখেনি। একজন মানুষ কথা বললে তাকে শতগুণ মণ্ডিত হয়ে দূরের মানুষের কাছেও পেঁৗছায়, তা এই প্রথম দেখল তারা। করটিয়া সাদাত কলেজের মাঠে সেই সভায় হাজার মানুষের ভিড়। মাঠের এক কোনায় বসেছিলেন শামসুল হক। জমিদার সাহেবের কথা শেষ হওয়ার পর তিনি ধীরে ধীরে গেলেন মঞ্চের ওপর। জমিদার পন্নীকে বললেন, হুজুর এই নির্বাচনে আমিও একজন প্রার্থী। কিন্তু আমার তো আপনার মতো টাকা নেই। আপনার মতো মাইক পাব কোথায়? যদি আমাকে অনুমতি দেন তাহলে এই মাইকে আমি আমার নিজের দুটি কথা বলতে পারি। তিনি বললেন, হ্যাঁ, হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। কেন নয়।

শামসুল হক একজন জ্ঞানী মানুষ ছিলেন। লেখাপড়া জানতেন। ইংরেজি বাংলা উভয় ভাষায় লিখতে এবং বলতে পারদর্শী ছিলেন। নিজেই নিজের দলের ম্যানিফেস্টো লিখেছিলেন এবং খুব ভালো বক্তৃতাও করতে পারতেন। মাইক নিয়ে তিনি প্রথমেই ভূয়সী প্রশংসা করলেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী খুররম খান পন্নীর। কৃতজ্ঞতা জানালেন প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়া সত্ত্বেও তার মতো একজন সাধারণ মানুষকে জমিদার সাহেব মাইক ব্যবহার করতে দিয়েছেন তার জন্য। তারপর তার মূল কথায় এলেন। শামসুল হক বললেন, জমিদার খুররম খান পন্নীর বিরুদ্ধে আমি প্রার্থী নই। তার মতো ভালো মানুষের বিরুদ্ধে আমার কোনো বক্তব্য নেই। আমার লড়াই মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে। আমি মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছি। শামসুল হকের সেই বক্তৃতার কোনো ডকুমেন্ট আজ কারও কাছে নেই। কিন্তু অসাধারণ বক্তৃতা করেছিলেন তিনি। খুররম খান পন্নীর জনসভায় আসা মানুষও শামসুল হকের বক্তৃতা শুনে জেগে উঠেছিলেন। ভোট দিয়েছে শামসুল হককে। বিশাল ভোটের ব্যবধানে খুররম খান পন্নী পরাজিত হন।

শামসুল হকের এই বিজয় মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে পূর্ববাংলার জনগণের প্রথম রায়। টাঙ্গাইলের উপনির্বাচনের বিজয় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠায় বিশাল, উর্বর একটি জমি তৈরি হয়েছিল এবং শামসুল হক এই জমি ও তার ওপর বাড়ি নির্মাণে অন্যতম কারিগর ছিলেন।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন বিকেল তিনটায় ঢাকার কে এম দাস লেনের ‘রোজ গার্ডেনে’ সম্মেলন শুরু হলো। উপস্থিত ২৫০ থেকে ৩০০ জন। আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে শুরু হলো সম্মেলন। তাঁরা আলাপ-আলোচনা করে তৈরি করলেন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’। নামকরণ করলেন ভাসানী স্বয়ং। তাঁদের যুক্তি ছিল, তাঁরা সবাই মুসলিম লীগার। তবে আকরাম খাঁ-নুরুল আমীনদের মুসলিম লীগ হলো সরকারি মুসলিম লীগ, তাঁদেরটা হবে আওয়ামের অর্থাৎ জনগণের মুসলিম লীগ। তাঁদের লক্ষ্য হলো, ‘স্বার্থান্বেষী মুষ্টিমেয় লোকদের পকেট হইতে বাহির করিয়া সত্যিকার জনগণের মুসলিম লীগ গড়ে তোলা।’

মাওলানা ভাসানীকে সভাপতি, শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক এবং ইয়ার মোহাম্মদ খানকে কোষাধ্যক্ষ করে নতুন দলের ৪০ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি তৈরি করা হয়। তরুণ সংগঠকদের অন্যতম শেখ মুজিবুর রহমান তখন কারাগারে। ভাসানীর আগ্রহ ও ইচ্ছায় তাঁকে দলের যুগ্ম সম্পাদক বানানো হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ পদ তৈরি হয়েছিল শেখ মুজিবের কথা মনে রেখেই।

১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষে জেল থেকে বেরিয়ে শেখ মুজিব ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন এবং ১৯৫৩ সালে অনুষ্ঠিত দলের কাউন্সিল অধিবেশনে পুরোদস্তুর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। যুগ্ম সম্পাদক পদটি বিলুপ্ত হয়। শেখ মুজিব মাঠে-ঘাটে-হাটে ঘুরে ঘুরে সংগঠনটির বিস্তৃতি ঘটান। একটানা ১৩ বছর দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থেকে তিনি দলটিকে দেশের সবচেয়ে বড় ও জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে পরিচিত করাতে পেরেছিলেন।

ফিরে আসি প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের কথায়। প্রথম কিভাবে তিনি প্রেক্ষাপট থেকে হারিয়ে গেলেন! ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির পর পাকিস্তান সরকার শামসুল হক সহ কয়েকজনকে জননিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করে জেলে প্রেরণ করে। শামসুল হক জেলে থাকাকালীন সময়ে শেখ মুজিবকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

ঠিক এই পর্যায়ে এসে শামসুল হক পাকিস্তান সরকারের ঘৃন্য অত্যাচার ও পারিবারিক গুটিবাজির শিকার হন। সেই সময়কার নরসিংদির সেকান্দার মাস্টার সাহেবের কন্যা আফিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন শামসুল হক। জানা যায়, আফিয়া খাতুন একজন উচ্চাভিলাষী মহিলা ছিলেন। শামসুল হক আরও অনেক বড় হবেন। মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীও হয়ে যেতে পারেন হয়তো এই আশায় তিনি শামসুল হককে বিয়ে করেন। কিন্তু শামসুল হক জেলে যাওয়ার পরে তিনি তাকে ছেড়ে চলে যান। শেষ পর্যন্ত তিনি আমেরিকা চলে যান এবং সেখানে একজন পাকিস্তানিকে বিয়ে করেন।

শামসুল হকের এক কন্যাসন্তান ছিল, পরের ঘরে আরেক মেয়ে সন্তান হয়েছিলো বলে জানা যায়। বড় মেয়ের নাম উম্মেবতুল ফাতেমাজ জহুরা (শাহীন) এবং ছোট মেয়ের নাম উম্মেবতুল তাহেরা (সোয়েফা)। বর্তমানে তারা দুজনেই পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্ত এবং বিবাহিতা। সপরিবারে আমেরিকা বসবাস করেন। মেয়েরা একবার টাঙ্গাইলে খুঁজে পাওয়া বাবার কবর দেখতে এসেছিলেন। তাদের নাকি বলা হতো তোমাদের পিতা একজন বদ্ধ উন্মাদ, তার কাছে গেলে সে তোমাদের মেরে ফেলতে পারে।

স্ত্রী আফিয়া খাতুনের উচ্চাভিলাস এবং ক্ষমতাসীন স্বৈরাচারী সরকারের অত্যাচারে জেলখানায় শামসুল হকের মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটে। ১৯৫৩ সালে অত্যন্ত অসুস্থ শরীর এবং জটিল মানসিক ব্যাধি নিয়ে কারামুক্তি লাভ করেন।

১৯৬৪ সাল পর্যন্ত মানসিক ভারসাম্যহীন শামসুল হককে পথে পথে ঘুরতে দেখেছেন অনেকেই। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে প্রায় ১০ বছর পথে পথে ঘুরে বেরিয়েছেন তিনি। ১৯৬৫ সালে শামসুল হক হঠাৎ নিখোঁজ হন।১৯৬৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে জোকারচর গ্রামের মহিউদ্দিন আনসারী (তৎকালীন নামকরা কংগ্রেস নেতা) কলকাতা থেকে সিরাজগঞ্জ হয়ে বাড়ি ফেরার পথে কোনো এক স্থান থেকে শামসুল হককে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তখন শামসুল হক শারীরিক ও মানসিকভাবে ভীষণ অসুস্থ ছিলেন। সে সময় গ্রামের হাতেগোনা কয়েকজন সচেতন ও শিক্ষিত লোক ছাড়া শামসুল হককে কেউ চিনতেন না। অসুস্থ শামসুল হক মহিউদ্দিন আনসারীর বাড়িতে ৭ দিন থাকার পর তার হঠাৎ খুব জ্বর হয়। স্থানীয় হোমিও চিকিৎসক শুকলাল দাস শামসুল হকের চিকিৎসা করেন। প্রচণ্ড জ্বরে শামসুল হক কোন ১১ সেপ্টেম্বর রোজ শনিবার দুপুর ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে মারা যান।

শামসুল হককে টাংগাইল জেলার কালিহালি উপজেলার কদিম হামজানি গ্রামের কবরস্থানে কবর দেওয়া হয়।

অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই যে, এই শামসুল হককে কোথায় কবর দেওয়া হয়েছিলো, কিভাবে তিনি মারা গিয়েছিলেন সেটা ও ২০০৭ সালের আগে জানা ছিলো না।

আমার ইচ্ছে আছে এবার দেশে গেলেই এই প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ শামসুল হকের কবরস্থানে এক গুচ্ছ ফুল রেখে আসার।

টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি উপজেলায় বংশাই নদীর তীরে কদিম হামজানি নামক গ্রামে অবস্থিত। বর্তমানে এ মসজিদটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হিসাবে স্বীকৃত এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত একটি স্থাপনা।এই মসজিদের পাশেই রয়েছে বাংলাদেশের আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামছুল হক এর সমাধি ।

উল্লেখ্য, তিনি টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলায় এক নিভৃত গ্রাম মাইঠানে ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি ১ শামসুল হক তার মামাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

নোটঃ বিভিন্ন অনলাইন সূত্র ও পুস্তকে পাওয়া তথ্যের উপর এই লেখাটি। কোন ভুল থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো।

তথ্যমন্ত্রীর উপর হামলা চালায় এরা

বাংলাদেশ থেকে আমারব্লগ ডট কমের বাংলা লায়ন, কিউবি নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারী ব্লগারগন আমাকে জানিয়েছে যে তারা বাংলাদেশ থেকে আমারব্লগ একসেস করতে পারছে না। সেজন্য এই লেখাটি আমার ব্যক্তিগত ব্লগে ও দিলাম।

বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু’র সম্প্রতি লন্ডনের এটিএন বাংলা ইউকে’র অফিসে কতিপয় জামায়াত-বিএপি ক্যাডার কর্তৃক আক্রমিত হওয়ার কথা আপনারা ইতোমধ্যে সবাই জেনেছেন । শুধু তাই নয় উল্লেখিত ক্যাডারগনের মধ্যেই কেউ একজন এই আক্রমনের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দীও করেছে বলে দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও মন্ত্রী মহোদয়কে ডিফেইম করার উদ্দ্যেশে জামায়াত-বিএনপি উক্ত ছবিগুলো সামাজিক যোগাযযোগ মাধ্যমে রিলিজ দিয়েছে। কিন্তু আসল ছবি রিলিজ দেয়নি। ক্যাডারদের মুখ ব্লার করে দেওয়া হয়েছে যাতে তাদের চিহ্নিত করা না যায়। এ থেকেই বুঝা যায় এটি একটি পরিকল্পিত আক্রমন।
Continue reading

দৈনিক কালেরকন্ঠে প্রকাশিত আমার বক্তব্যের টুইস্ট প্রসঙ্গে


আজ ১৫ জুন ২০১২ দৈনিক কালেরকন্ঠে ” যাচ্ছেতাই ভাষা বাংলা ব্লগে ” শিরোনামে সাংবাদিক বিপ্লব রহমানের যে আর্টিকেলটি প্রকাশিত হয়েছে সেখানে আমার দেওয়া বক্তব্য সম্পাদকের খোঁচায় পরিবর্তিত হয়েছে বলে আমি মনে করি। Continue reading

আমার সারাটা দিন এমনি গেলো

আজকে ভেবেছিলাম অফিস থেকে ফেরার পথে ল্যাপটপ টা সাথে আনবো না। যেহেতু বাসার ল্যাপটপ টা মেয়ে কিছুদিন আগে পানি ফেলে নষ্ট করে ফেলেছিলো, কাজেই দেখতে চেয়েছিলাম একরাত আমারব্লগ ছাড়া থাকতে পারি কিনা। সেভাবেই ল্যাপটপ রেখে ও এসেছিলাম। কিন্তু মাঝ রাস্তায় এসে মনে হলো কোথাও ভুল হচ্ছে না তো?

আবার ফিরে গেলাম অফিসে , সাথে করে ল্যাপটপ নিয়ে এলাম। এদিকে আজ সকালে তিনজন মিলে কফি খাচ্ছিলাম। বলতেছিলাম যে নতুন বছর থেকে ব্লগিং করবো না আর। দুইজনই বললো, এটা আবার বেশি হয়ে যাবে। ব্লগিং করবেন না কেনো? জানি নিজেকে ধরে রাখা খুব কষ্টের , তারপরও হাত নিশপিশ করলে ও অনেক ক্ষেত্রেই এভয়েড করে থাকতে হবে। আমার যা স্বভাব, আমাকে দিয়ে হবে না আর। আমি ভাই এভয়েড করতে শিখি নাই, লিমিট ক্রস আমি সহ্য করতে পারি না। তাই নিজেকেই সরিয়ে নিবো। খুব দরকার পড়লে আমার ব্যক্তিগত সাইটে হয়তো লিখবো। নতুন বছরের শুরু থেকেই অর্গানাইজড হয়ে চলার প্রিপারেসন নিচ্ছি। নিজের পেশায় নজর দিবো। নো ব্লগিং ফ্লগিং।

ব্লগিং করবো আবু’তে আর ক্যাচাল করবো আমু’তে এরকম চিন্তা করার সুযোগ কেন আসে আমি বুঝি না। আমাকে গালি দিতে মন চাইলে এখানেই দেন ভাই। আমারে জন্মদিন জানাইতে হইলে ও এখানেই সুযোগ আছে। আমারে নিয়ে স্যাটায়ার করবেন তা ও এখানেই দেওয়া যায়। আমাকে ভালো না লাগতে পারে, সেই ইমপ্যাক্ট যেনো ব্লগে না আসে। আমার ও কাউকে ভালো না লাগতে পারে, আমি চেষ্টা করবো সেটার কোন ইমপ্যাক্ট ব্লগে না আনতে।

কেউ যদি আমার অনুমতি ছাড়া আমার কথা রেকর্ড করে ভদ্রবেশে আমি তাকে পছন্দ করবো না। যারা সেই রেকর্ডওয়ালাদের সাপোর্ট করবে তাদের ও আমি ভালোবাসবো না। আর সেটাই স্বাভাবিক। বাট, হু আই এম। আমাকে ব্লগার হিসেবেই ভাবুন। এহামিদার কথায়ই বলতে হয় যে আমার ও তো বাক স্বাধীনতা আছে। নাকি?

এসব লিখতে না লিখতেই ভোরের কাগজের এক খবরের লিঙ্ক – ঢাবিতে নিষিদ্ধ শিবিরের জাল। পুরোটা পড়ার পর কেমন লাগে?

প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে না পারায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কৌশল পাল্টেছে ছাত্রশিবির। ছাত্রদলের হয়েই এখন জোরেশোরে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত এই ছাত্র সংগঠনটি। কর্মী সংকটে পড়ে ছাত্রদলও শিবির কর্মীদের দলে ভেড়াচ্ছে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জামাতপন্থী শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ মদদেও ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম চলছে ক্যাম্পাসে। জানা গেছে, সাদা দলের কয়েকজন প্রভাবশালী জামাতপন্থী শিক্ষক নেতাও শিবিরের কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করছেন। প্রতিকূল অবস্থাতেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিবিরের কার্যক্রম আগের চেয়েও বেশি গতিশীল বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

ভাই, ছাত্রদলেরই বা কি দুষ। আমি তো অনেক শুনেছি যে বর্তমান ছাত্রলীগের সভাপতিই সাবেক শিবিরকর্মী! আমার অতীত অভিজ্ঞতা বলে রিপোর্ট ঠিকই আছে।

চরম বাম ও এখন ডানে মোড় নিছে, মধ্যপন্থিরা তো নিবেই। আমরা কি সবাই ডানেই এগুচ্ছি?

ব্লগ নিয়ে ব্লগিং ২০০৯

সারাদিন ধরে মাথায় টপিক টা খেলতেছিলো। সন্ধায় লিখবো লিখবো করতেই কিছু ঝামেলায় পড়ে যাওয়াতে আর লেখা হয়ে উঠে নাই। এর মধ্যেই আমি ফিরে দেখা আমারব্লগ নামে ৬ পর্বের একটি সিরিজ লিখেছিলাম। আইডিয়া টা তখনই মাথায় আসে।

সারা বছর জুড়েই বাংলা সব ব্লগেই আনাগোনা ছিলো। আমারব্লগ ছাড়া ও অন্যান্য বাংলা ব্লগে ও পোস্ট দিয়েছি টুকটাক। এর মধ্যে প্রথম আলোব্লগে পোস্ট দিলাম একটিসামওয়ারহীন ব্লগে পোস্ট ছিলো সম্ভবত ১৩১ টি। সব গুলো পোস্ট ড্রাফট করে রেখেছিলাম। কয়েকদিন আগে আমাদের পুরনো কমরেড সুমন চৌধুরী সামুতে পোস্ট দিয়েছিলো একটা। কি মনে করে জানি আমি ও দিয়েছিলাম , পরে ড্রাফট করে নিছি। নির্মানঃ মুক্তাঙ্গন ব্লগে পোস্ট দিয়েছি তিন টা।

আরেকটা ব্লগ আছে মুক্তমনা বাংলাব্লগ। একাউন্ট যদি ও নাই। মাঝে মধ্যে ব্যাকলিঙ্ক ধরে পড়তে যাই। ইচ্ছে হয় একটা একাউন্ট খুলি। কিন্তু একবার কি কারনে জানি অভিজিত দা’র সাথে হালকা কথা বার্তা হয়েছিলো একটি রাইটার ফোরামে, ভাবি দাদা না আমারে দৌড়ানী দেয়! তাই একাউন্ট করা হয় না।

মাঝে মধ্যে ক্যাডেটকলেজ ব্লগে ও যাই। আমার বেশ কিছু প্রিয় বন্ধুরা ক্যাডেট কলেজ থেকে আসা। ওদের লেখা পড়তে যাই। যেহেতু আমি নিজে ক্যাডেট না তাই ওইখানে লেখার সুযোগ ও নাই।

গ্লোবাল ভয়েস বাংলা মূলত অনুবাদভিত্তিক সাইট হলে ও মাঝে মধ্যে ঢু মারি। বেশ কিছু ভালো অনুবাদ পড়ে ভালো লাগে। আরেকটা ব্লগ আছে নাম এভারগ্রিন বাংলা। নাম জানি। কিন্তু যাওয়া হয় না খুব একটা।

ব্লগ বলতে আপাতত এগুলাই মাথায় আছে। যদি ও বিষয়ভিত্তিক কিছু ভালো ব্লগ আছে যেমন নগরবালক, ভালো করছে ওরা। সময়ের অভাবে খুব বেশি যাওয়া হয় না যদি ও। টেকটিউন নামে একটি বাংলা টেকনোলজি ব্লগ আছে। ওরা ও বেশ ভালো।

আছে বেশ কিছু ভারতীয় বাংলাব্লগ। শুধু নামই জানি। যাই নাই কোন সময়। পাঁচফোড়ন , লোটাকম্বল , কফি হাউসের আড্ডা নামে ব্লগ গুলা আছে।

বাকি রইলো পোর্টাল । পোর্টালের মধ্যে আছে ইমেলা/প্রিয়। বাংলা-ইংরেজী মিক্স। তাই তেমন ভালো লাগে না। তবে ব্যাক লিঙ্ক ধরে মাঝে মধ্যেই যাই সেখানে।

ফোরাম বলতে আমাদের প্রযুক্তি এর সদস্য আমি। একটা পোস্ট ও দিয়েছিলাম। আরেকটা ফোরাম আছে প্রজন্ম ফোরাম। সেখানে একবার রেজি করতে গিয়ে ফিরে আসছিলাম ক্যাপচা না মিলাতে পেরে। পরে আর যাওয়া হয়নি।

রাইটার ফোরাম ও আছে কিছু। যেগুলার লেখার কোয়ালিটি খুব ভালো। যেমন সদালাপ। কিন্তু একটা সমস্যা আছে সেটা তে ও। বাংলা লেখা ও আছে আবার ইংরেজী লেখা ও আছে। দেখতে ভালো লাগে না। যে কোন একটা হলেই ভালো। যেমন আছে প্রোগ্রেসিভ বাংলাদেশ। জটিল জটিল সব লেখা। যদি ও সব লেখা ইংরেজীতে , তা ও আমি ফলো করি সব সময়। আরেকটি বাংলা রাইটার ফোরাম আছে নাম সচলায়তন। যদি ও তারা ঘোষিত রাইটার ফোরাম তারপরে ও সম্প্রতি বেস্ট অব বাংলাব্লগ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করে কিছুটা ডেফিনিয়েসন সঙ্কটে ভুগছে। না ব্লগ না রাইটার ফোরাম দ্বন্দ্ব থেকে বের হতে না পারলে ও ব্লগ -ফোরাম- রাইটার ফোরাম যে কারো চেয়েই ভালো লেখায় এগিয়ে আছে। হাজার হোক কোয়ালিটি লাস্টস।
Continue reading