Category Archives: politics

পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের তিন রাজনৈতিক দল- কার অবস্থান কি?

নির্বাচন হলো অংকের খেলা। পরিসংখ্যানের খেলা। এখানে উন্নয়ন, দূর্নীতি তেমন ভূমিকা রাখে বলে মনে হয় না। আমরা যারা ডাটা নিয়ে কাজ করি তাদের কাছে এই অংকটাই আসল।

আমি সেদিন বলছিলাম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মোট প্রাপ্ত ভোট কোনদিন কমে নাই। এটা ১৯৯১ থেকে ক্রমাগত বেড়েই চলছে।

১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে কাস্ট হওয়া ভোটের ৩০.০৮ শতাংশ পায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে দলটির ভোট ৭ শতাংশ বেড়ে ৩৭.৪৪ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০০১ সালের নির্বাচনে দলটির ভোট ৩ শতাংশ বেড়ে ৪০.১৩ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোট আরও প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ৪৮.০৪ শতাংশে দাঁড়ায়।

চলুন দেখি এবার জামায়াত-বিএনপির কি অবস্থা!

বিএনপির ভোট কখনো বেড়েছে, কখনো কমেছে। আর জামায়াতের ভোট ধারাবাহিকভাবে কমেছে। জাতীয় পার্টির ভোট ও ধারাবাহিক ভাবে কমতির দিকেই।

১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে কাস্ট হওয়া ভোটের ৩০.৮১ শতাংশ পায় বিএনপি। ওই বছর তারা ১৪০টি আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে দলটির ভোট ৩ শতাংশ বেড়ে ৩৩.৬০ শতাংশে দাঁড়ায়। ওই বছর ১১৬ আসন নিয়ে বিরোধী দল হয় তারা। এর পর ২০০১ সালের নির্বাচনে ৭ শতাংশ বেড়ে ৪০.৯৭ শতাংশে দাঁড়ায় বিএনপির ভোট। সে বছর তারা ১৯৩ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রাপ্ত ভোট ৮ শতাংশ কমে ৩২.৫০ শতাংশে দাঁড়ায়। এ দফায় তারা মাত্র ৩০ আসন পেলেও বিরোধী দল হয়।

জামায়াতের অবস্থাটা দেখি এবার। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে কাস্ট হওয়া মোট ভোটের ১২.১৩ শতাংশ পায় তারা। আসন পায় ১৮টি। এর পর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিতর্কিত এই রাজনৈতিক দলটির ভোট ৪ শতাংশ কমে ৮.৬১ শতাংশে দাঁড়ায়। সেবার তারা আসন পায় মাত্র ৩টি। ২০০১ সালের নির্বাচনে আরও ৪ শতাংশ কমে তাদের ভোট দাঁড়ায় ৪.২৮ শতাংশে। ভোট কম পেলেও জোটের কল্যাণে সে বছর তারা ১৭টি আসনে বিজয়ী হয়। এর পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে কাস্ট হওয়া মোট ভোটের ৪.৭০ শতাংশ পেলেও আসন পায় মাত্র ২টি।

এই সরল পরিসংখ্যান থেকে এটা সহজেই বুঝা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশে বিএনপির ৩০.৮১% এবং জামায়াতের ৪.২৮% নূন্যতম ভোট আছে। যেহেতু যা জামায়াত তাই বিএনপি এই ৩৫.০৯% ভোট বিএনপির বাক্সে পড়বেই।

আমরা দেখি যেকোন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নূন্যতম ভোট ৩০.০৮%!

বিষয়টা কি দাড়াইলো তাহলে? চলুন দেখে আসি জাতীয় পার্টির বাক্সে কি আছে?

১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত ৫ম জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সর্বমোট ২৭২টি আসনে প্রার্থী দেয়। এতে মাত্র ৩৫টি আসন পায় এরশাদের দল। সেই নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের মধ্যে মাত্র ১১ শতাংশ ভোট পায় জাতীয় পার্টি।১৯৯৬ সালের ৬ষ্ঠ নির্বাচনে কয়েকটি ইসলামী দলের সঙ্গে জোট করে ২৯৩টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ৩২টি আসন পায় দলটি।ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ২৯৩ আসনে প্রার্থী দিয়ে পেয়েছিল ১৬.৪০ শতাংশ ভোট।২০০১ সনে জাতীয় পার্টি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে জোট গঠন করে ২৮১ আসনে প্রার্থী দিয়ে ৭.২৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। প্রাপ্ত সিট ১৪! ২০০৮ সনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে ৪৯টি আসনে প্রার্থী দিয়ে আসন পায় ২৭টি। শতকরা হার ৭।

মানে দাড়াইলো যে কোন পরিস্থিতিতে জাতীয় পার্টি তার বাক্সে নূন্যতম ৭%!

পরিসংখ্যান বলে যে এই জাতীয় পার্টির নূন্যতম ৭% যদি আওয়ামী লীগের নূন্যতম ৩০.০৮% এর সাথে যুক্ত হয় তাহলে সেটা হয় ৩৭.০৮% যা জামায়াত-বিএনপি নুন্যতম ৩৫.০৯% এর চেয়ে বেশি।

এবার দেখার পালা এই অংকের খেলা কোথায় গিয়ে শেষ হয়! এই নূন্যতম ভোটের অংক বাদ দিলে বাকি থাকে সুইং ভোটার যা প্রায় ২৫%; মূল খেলা এখানেই হবে। যারা এদের ভোট টানবে তারাই জয়ী হবে।

Advertisements

বঙ্গবন্ধু’র ‘কারাগারের রোজনামচা’!

jail
আজকে আমরা যারা রাজনীতি করি তারা একটা মামলা খেলেই হতাশ হয়ে পড়ি! কিন্তু আমরা কি জানি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর রাজনৈতিক জীবনে কতোবার এবং কতো বছর জেলে থেকেছেন? আসুন জেনে নেই। তাহলে এখনকার রাজনীতিবিদদের কারাগারভীতি কিছুটা যদি কমে!

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর রাজনৈতিক জীবনে ৪ হাজার ৬৮২ দিন অর্থাৎ ১৪ বছর কারাভোগ করেছেন। এর মধ্যে স্কুলের ছাত্র অবস্থায় ব্রিটিশ আমলে সাত দিন কারা ভোগ করেন। বাকি ৪ হাজার ৬৭৫ দিন তিনি কারাভোগ করেন পাকিস্তান সরকারের আমলে।

হ্যাঁ, বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের ১৪টি বছর কারাগারে ছিলেন।

১/ তিনি ১৯৩৮ সালে প্রথম কারাগারে যান।

২/ ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত তিনি পাঁচ দিন কারাগারে ছিলেন।

৩/একই বছর ১১ সেপ্টেম্বর আটক হয়ে মুক্তি পান ১৯৪৯ সালের ২১ জানুয়ারি। এ দফায় তিনি ১৩২ দিন কারাভোগ করেন।

৪/১৯৪৯ সালের ১৯ এপ্রিল আবারও কারাগারে গিয়ে ৮০ দিন কারাভোগ করে মুক্তি পান ২৮ জুন। ওই দফায় তিনি ২৭ দিন কারাভোগ করেন।

৫/একই বছরের ১৯৪৯ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬৩ দিন এবং

৬/১৯৫০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯৫২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি টানা ৭৮৭ দিন কারাগারে ছিলেন।

৭/১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পরও বঙ্গবন্ধুকে কারাগারে যেতে হয়। তিনি বলেন, সে সময়ে বঙ্গবন্ধু ২০৬ দিন কারা ভোগ করেন।

৮/১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক আইন জারির পর বঙ্গবন্ধু ১১ অক্টোবর গ্রেপ্তার হন। এ সময়ে টানা ১ হাজার ১৫৩ দিন তাঁকে কারাগারে কাটাতে হয়।

৯/১৯৬২ সালের ৬ জানুয়ারি আবারও গ্রেপ্তার হয়ে মুক্তি পান ওই বছরের ১৮ জুন। এ দফায় তিনি কারাভোগ করেন ১৫৮ দিন।

১০/এরপর ’৬৪ ও ’৬৫ সালে বিভিন্ন মেয়াদে তিনি ৬৬৫ দিন কারাগারে ছিলেন। ছয় দফা দেওয়ার পর জাতির পিতা যেখানে সমাবেশ করতে গেছেন, সেখানেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। ওই সময়ে তিনি ৩২টি জনসভা করে বিভিন্ন মেয়াদে ৯০ দিন কারাভোগ করেন।

১১/৬৬ সালের ৮ মে আবারও গ্রেপ্তার হয়ে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মুক্তি পান। এ সময় তিনি ১ হাজার ২১ দিন কারাগারে ছিলেন।

১২/১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই পাকিস্তান সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এ দফায় তিনি কারাগারে ছিলেন ২৮৮ দিন।

পাকিস্তানের ২৩ বছরের শাসনকালে বঙ্গবন্ধু ১৮ বার জেলে গেছেন, মোট সাড়ে ১১ বছর জেলে কাটিয়েছেন, মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন দুবার। বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত ঘটনাপঞ্জি বিবৃত করা হয়েছে। ১৯৬৬-৬৯ সালে কারাগারে থাকাকালে তিনি তাঁর এই ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ রচনা করেছেন। তাঁর এই অসাধারণ কাজটি করার পেছনে মূল চালিকাশক্তি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী বেগম ফজিলাতুননেসা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর কাছে তিনি রেণু। উচ্চ শিক্ষিত না হয়েও বঙ্গবন্ধুর জীবন ও যৌবনের কিছু কথা লিখে যাওয়ার তাগিদ তিনি অনুভব করেছেন এবং সেভাবে স্বামীকে তিনি উৎসাহ জুগিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং লেখার জন্য খাতা কিনে দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে লিখতে অনুপ্রাণিত করেছেন।

বেগম মুজিব তাঁর অসাধারণ কাজটি পরবর্তীকালে বঙ্গবন্ধুকে যখন ১৯৬৬ সালে ছয় দফা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার করা হয় তখনো চালু রেখেছেন। নিয়মিত তাঁর স্বামীকে লেখার জন্য খাতা সরবরাহ করেছেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির অত্যন্ত এক ক্রান্তিকালে কারাগারে বসে তাঁর দিনলিপি লেখার চেষ্টা করেছেন, যা বেগম মুজিব সযত্নে সংরক্ষণ করেছেন।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু পরিবারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর দুই কিস্তিতে বঙ্গবন্ধুকন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি থেকে খাতাগুলো উদ্ধার করেন, যা কয়েক দিন আগে বাংলা একাডেমি ‘কারাগারের রোজনামচা’ হিসেবে প্রকাশ করেছে। বঙ্গবন্ধু বইটির মূল নাম দিয়েছিলেন ‘থালা বাটি কম্বল, জেলখানার সম্বল’। এটি একনাগাড়ে পড়ার মতো একটি বই-ই শুধু নয়, একজন মহামানবের একটি অসাধারণ মানবিক দলিলও বটে।

সবাইকে অনুরোধ করবো এই ‘কারাগারের রোজনামচা’ বারবার পড়ার জন্য।

স্ত্রী আফিয়া খাতুনের উচ্চাভিলাস আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক’কে হারিয়ে দিয়েছিলো !

আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হকের ফাইল ফটো

আজ ২৩ জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। সারাদিন এক ষড়যন্ত্রের শেকড় খুঁজার কাজে ব্যস্ত ছিলাম তাই কম্পিউটারে বসতে পারিনি। কয়েকদিন ধরেই ভাবছিলাম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকির এই দিনে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হকের কিছু কথা লিখবো।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর থেকেই পূর্ব বাংলার জনগন তখনকার সরকারী দল মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে চেতনাগতভাবে সংঘবদ্ধ হতে শুরু হয়েছিলো। এর প্রথম সরব প্রমান দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক ১৯৪৯ সালের মার্চ/এপ্রিলে টাঙ্গাইলের উপনির্বাচনে মুসলিম লীগের প্রার্থী করটিয়ার জমিদার খুররম খান পন্নীকে পরাজিত করার মাধ্যমে।

জানা যায়, রটিয়ার জমিদার খুররম খান পন্নী। একজন নিপাট প্রজাপ্রিয় ভদ্রলোক। প্রজা নিপীড়ন বা নির্যাতনের কোনো অভিযোগ ছিল না তার নামে। আবার আচরণে নিখুঁত বিনয়ী। তার বিরুদ্ধে শামসুল হক কোনো বিবেচনাযোগ্য প্রার্থী ছিলেন না। খুররম খান পন্নী তার নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতা করার জন্য মাইক নিয়ে এসেছিলেন। টাঙ্গাইলের মানুষ এর আগে কখনো মাইক দেখেনি। একজন মানুষ কথা বললে তাকে শতগুণ মণ্ডিত হয়ে দূরের মানুষের কাছেও পেঁৗছায়, তা এই প্রথম দেখল তারা। করটিয়া সাদাত কলেজের মাঠে সেই সভায় হাজার মানুষের ভিড়। মাঠের এক কোনায় বসেছিলেন শামসুল হক। জমিদার সাহেবের কথা শেষ হওয়ার পর তিনি ধীরে ধীরে গেলেন মঞ্চের ওপর। জমিদার পন্নীকে বললেন, হুজুর এই নির্বাচনে আমিও একজন প্রার্থী। কিন্তু আমার তো আপনার মতো টাকা নেই। আপনার মতো মাইক পাব কোথায়? যদি আমাকে অনুমতি দেন তাহলে এই মাইকে আমি আমার নিজের দুটি কথা বলতে পারি। তিনি বললেন, হ্যাঁ, হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। কেন নয়।

শামসুল হক একজন জ্ঞানী মানুষ ছিলেন। লেখাপড়া জানতেন। ইংরেজি বাংলা উভয় ভাষায় লিখতে এবং বলতে পারদর্শী ছিলেন। নিজেই নিজের দলের ম্যানিফেস্টো লিখেছিলেন এবং খুব ভালো বক্তৃতাও করতে পারতেন। মাইক নিয়ে তিনি প্রথমেই ভূয়সী প্রশংসা করলেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী খুররম খান পন্নীর। কৃতজ্ঞতা জানালেন প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়া সত্ত্বেও তার মতো একজন সাধারণ মানুষকে জমিদার সাহেব মাইক ব্যবহার করতে দিয়েছেন তার জন্য। তারপর তার মূল কথায় এলেন। শামসুল হক বললেন, জমিদার খুররম খান পন্নীর বিরুদ্ধে আমি প্রার্থী নই। তার মতো ভালো মানুষের বিরুদ্ধে আমার কোনো বক্তব্য নেই। আমার লড়াই মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে। আমি মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছি। শামসুল হকের সেই বক্তৃতার কোনো ডকুমেন্ট আজ কারও কাছে নেই। কিন্তু অসাধারণ বক্তৃতা করেছিলেন তিনি। খুররম খান পন্নীর জনসভায় আসা মানুষও শামসুল হকের বক্তৃতা শুনে জেগে উঠেছিলেন। ভোট দিয়েছে শামসুল হককে। বিশাল ভোটের ব্যবধানে খুররম খান পন্নী পরাজিত হন।

শামসুল হকের এই বিজয় মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে পূর্ববাংলার জনগণের প্রথম রায়। টাঙ্গাইলের উপনির্বাচনের বিজয় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠায় বিশাল, উর্বর একটি জমি তৈরি হয়েছিল এবং শামসুল হক এই জমি ও তার ওপর বাড়ি নির্মাণে অন্যতম কারিগর ছিলেন।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন বিকেল তিনটায় ঢাকার কে এম দাস লেনের ‘রোজ গার্ডেনে’ সম্মেলন শুরু হলো। উপস্থিত ২৫০ থেকে ৩০০ জন। আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে শুরু হলো সম্মেলন। তাঁরা আলাপ-আলোচনা করে তৈরি করলেন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’। নামকরণ করলেন ভাসানী স্বয়ং। তাঁদের যুক্তি ছিল, তাঁরা সবাই মুসলিম লীগার। তবে আকরাম খাঁ-নুরুল আমীনদের মুসলিম লীগ হলো সরকারি মুসলিম লীগ, তাঁদেরটা হবে আওয়ামের অর্থাৎ জনগণের মুসলিম লীগ। তাঁদের লক্ষ্য হলো, ‘স্বার্থান্বেষী মুষ্টিমেয় লোকদের পকেট হইতে বাহির করিয়া সত্যিকার জনগণের মুসলিম লীগ গড়ে তোলা।’

মাওলানা ভাসানীকে সভাপতি, শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক এবং ইয়ার মোহাম্মদ খানকে কোষাধ্যক্ষ করে নতুন দলের ৪০ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি তৈরি করা হয়। তরুণ সংগঠকদের অন্যতম শেখ মুজিবুর রহমান তখন কারাগারে। ভাসানীর আগ্রহ ও ইচ্ছায় তাঁকে দলের যুগ্ম সম্পাদক বানানো হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ পদ তৈরি হয়েছিল শেখ মুজিবের কথা মনে রেখেই।

১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষে জেল থেকে বেরিয়ে শেখ মুজিব ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন এবং ১৯৫৩ সালে অনুষ্ঠিত দলের কাউন্সিল অধিবেশনে পুরোদস্তুর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। যুগ্ম সম্পাদক পদটি বিলুপ্ত হয়। শেখ মুজিব মাঠে-ঘাটে-হাটে ঘুরে ঘুরে সংগঠনটির বিস্তৃতি ঘটান। একটানা ১৩ বছর দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থেকে তিনি দলটিকে দেশের সবচেয়ে বড় ও জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে পরিচিত করাতে পেরেছিলেন।

ফিরে আসি প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের কথায়। প্রথম কিভাবে তিনি প্রেক্ষাপট থেকে হারিয়ে গেলেন! ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির পর পাকিস্তান সরকার শামসুল হক সহ কয়েকজনকে জননিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করে জেলে প্রেরণ করে। শামসুল হক জেলে থাকাকালীন সময়ে শেখ মুজিবকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

ঠিক এই পর্যায়ে এসে শামসুল হক পাকিস্তান সরকারের ঘৃন্য অত্যাচার ও পারিবারিক গুটিবাজির শিকার হন। সেই সময়কার নরসিংদির সেকান্দার মাস্টার সাহেবের কন্যা আফিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন শামসুল হক। জানা যায়, আফিয়া খাতুন একজন উচ্চাভিলাষী মহিলা ছিলেন। শামসুল হক আরও অনেক বড় হবেন। মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীও হয়ে যেতে পারেন হয়তো এই আশায় তিনি শামসুল হককে বিয়ে করেন। কিন্তু শামসুল হক জেলে যাওয়ার পরে তিনি তাকে ছেড়ে চলে যান। শেষ পর্যন্ত তিনি আমেরিকা চলে যান এবং সেখানে একজন পাকিস্তানিকে বিয়ে করেন।

শামসুল হকের এক কন্যাসন্তান ছিল, পরের ঘরে আরেক মেয়ে সন্তান হয়েছিলো বলে জানা যায়। বড় মেয়ের নাম উম্মেবতুল ফাতেমাজ জহুরা (শাহীন) এবং ছোট মেয়ের নাম উম্মেবতুল তাহেরা (সোয়েফা)। বর্তমানে তারা দুজনেই পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্ত এবং বিবাহিতা। সপরিবারে আমেরিকা বসবাস করেন। মেয়েরা একবার টাঙ্গাইলে খুঁজে পাওয়া বাবার কবর দেখতে এসেছিলেন। তাদের নাকি বলা হতো তোমাদের পিতা একজন বদ্ধ উন্মাদ, তার কাছে গেলে সে তোমাদের মেরে ফেলতে পারে।

স্ত্রী আফিয়া খাতুনের উচ্চাভিলাস এবং ক্ষমতাসীন স্বৈরাচারী সরকারের অত্যাচারে জেলখানায় শামসুল হকের মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটে। ১৯৫৩ সালে অত্যন্ত অসুস্থ শরীর এবং জটিল মানসিক ব্যাধি নিয়ে কারামুক্তি লাভ করেন।

১৯৬৪ সাল পর্যন্ত মানসিক ভারসাম্যহীন শামসুল হককে পথে পথে ঘুরতে দেখেছেন অনেকেই। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে প্রায় ১০ বছর পথে পথে ঘুরে বেরিয়েছেন তিনি। ১৯৬৫ সালে শামসুল হক হঠাৎ নিখোঁজ হন।১৯৬৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে জোকারচর গ্রামের মহিউদ্দিন আনসারী (তৎকালীন নামকরা কংগ্রেস নেতা) কলকাতা থেকে সিরাজগঞ্জ হয়ে বাড়ি ফেরার পথে কোনো এক স্থান থেকে শামসুল হককে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তখন শামসুল হক শারীরিক ও মানসিকভাবে ভীষণ অসুস্থ ছিলেন। সে সময় গ্রামের হাতেগোনা কয়েকজন সচেতন ও শিক্ষিত লোক ছাড়া শামসুল হককে কেউ চিনতেন না। অসুস্থ শামসুল হক মহিউদ্দিন আনসারীর বাড়িতে ৭ দিন থাকার পর তার হঠাৎ খুব জ্বর হয়। স্থানীয় হোমিও চিকিৎসক শুকলাল দাস শামসুল হকের চিকিৎসা করেন। প্রচণ্ড জ্বরে শামসুল হক কোন ১১ সেপ্টেম্বর রোজ শনিবার দুপুর ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে মারা যান।

শামসুল হককে টাংগাইল জেলার কালিহালি উপজেলার কদিম হামজানি গ্রামের কবরস্থানে কবর দেওয়া হয়।

অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই যে, এই শামসুল হককে কোথায় কবর দেওয়া হয়েছিলো, কিভাবে তিনি মারা গিয়েছিলেন সেটা ও ২০০৭ সালের আগে জানা ছিলো না।

আমার ইচ্ছে আছে এবার দেশে গেলেই এই প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ শামসুল হকের কবরস্থানে এক গুচ্ছ ফুল রেখে আসার।

টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি উপজেলায় বংশাই নদীর তীরে কদিম হামজানি নামক গ্রামে অবস্থিত। বর্তমানে এ মসজিদটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হিসাবে স্বীকৃত এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত একটি স্থাপনা।এই মসজিদের পাশেই রয়েছে বাংলাদেশের আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামছুল হক এর সমাধি ।

উল্লেখ্য, তিনি টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলায় এক নিভৃত গ্রাম মাইঠানে ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি ১ শামসুল হক তার মামাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

নোটঃ বিভিন্ন অনলাইন সূত্র ও পুস্তকে পাওয়া তথ্যের উপর এই লেখাটি। কোন ভুল থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো।

Request to pay tribute at the Burunga Genocide Memorial, Sylhet, Bangladesh

burunga

Image: Burunga Genocide Memorial

Date: 16-2-2016

Open Letter

Stephen Timms MP,
Sir Keir Starmer  MP and
Steve Reed MP

Subject: Request to pay tribute at the Burunga Genocide Memorial, Sylhet, Bangladesh

Dear All,

It came to my attention through social media that you will be greeted at the Burunga Iqbal Ahmed High School, Sylhet at 2pm by the local community and Awami League Leaders. I am writing to inform you that there is a Genocide Memorial at Burunga [https://en.wikipedia.org/wiki/Burunga_massacre] near to where you will be of attendance.

Burunga massacre was a massacre of the Hindu population of Burunga and nearby villages on the Burunga High School grounds, in the district of Sylhet by the Pakistani army on 26 May 1971. There is no consensus on the number of the dead, with estimates ranging from 71 to 94. According to survivor Srinibas Chakraborty, 94 persons were killed. However, it is generally accepted that 78 Hindus were killed in the massacre.

In 1984, the government of Bangladesh enclosed the mass killing site with a brick wall. Later, a memorial for the victims of the genocide has been raised.

I wish to take this opportunity to kindly request that you pay tribute, along with the leaders of the Bangladesh Awami League, at the Burunga Genocide Memorial where people were killed by the Pakistani and their collaborators known as Moulvi Fazlul Rahman, Rustam Ali, Saif Uddin Ahmed, Abdul Khalik, Abdul Ahad Chowdhury Saad and Gouchur Rahman Chowdhury (Ref: Sylhete Gonohotta, Mr Tazul Mohammad, ISBN: 984-465-416-5, Page-47/55/-57) during the Independence War of Bangladesh.

I am pleased that you are visiting Burunga and hope to see you pay tribute at the Genocide Memorial. I wish you the best during your stay at Osmaninagar.

Kind regards,

Sushanta Das Gupta
A Londoner of Bangladeshi Origin

Email:                    das.gupta@sushanta.net
Website:              www.sushanta.net
FB:                          www.fb.com/Sushanta.D.Gupta

তারিখঃ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

জনাব

স্টিফেন টিমস এমপি
কেয়ার স্টমার এমপি
এমপি স্টিভ রিড এমপি

বিষয়: ওসমানীনগরে বুরুঙ্গা গণহত্যার স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের অনুরোধ।

মহোদয়গণ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে আমরা জানতে পেরেছি আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টায় আপনারা ওসমানীনগরের বুরুঙ্গা ইকবাল আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করতে যাবেন। সেখানে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ নেতারাও আপনাদের সাথে থাকবেন। আমি আপনাদের জানাতে চাই যে, ঐ এলাকায় ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার একটি স্মৃতিসৌধ আছে।

১৯৭১ সালের ২৬ মে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার বুরুঙ্গা এলাকায় স্থানীয় কয়েকজন দালাল-রাজাকারের সহযোগিতায় ৭৮ জন নিরীহ বাঙালিকে হত্যা করে। পরে মরদেহগুলো জ্বালিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালায় দালাল বাহিনী। এই ৭৮ জনই ছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের। হত্যাযজ্ঞের শিকার সবাইকে একই গর্তে মাটিচাপা দেয়া হয়। সেই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া প্রত্যক্ষদর্শী শ্রীনিবাস চক্রবর্তীর মতে নিহতের সংখ্যা পরে ৯৪ জনে দাঁড়িয়েছিল। তবে সাধারণভাবে ৭৮ জনই ধরা হয়।

১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকার একটি ইটের প্রাচীর দিয়ে বধ্যভূমিটি তৈরি করে। পরবর্তীতে গণহত্যায় নিহতদের জন্য একটি স্মারক স্থাপিত হয়েছে।

আমি আপনাদের অনুরোধ করব স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে নিয়ে এই স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন যেখানে পাকিস্তানি বাহিনী তাদের এদেশীয় দালালরা (মৌলভী ফজলুর রহমান, রুস্তম আলী, সাইফ উদ্দিন আহমেদ, আব্দুল খালিক, আব্দুল আহাদ চৌধুরী ছাদ এবং গৌছুর রহমান চৌধুরী) গণহত্যা চালিয়েছিল।(সূত্র: সিলেটে গণহত্যা, তাজুল মোহাম্মদ)।

আপনারা সুবিধাজনক সময় বের করে বুরুঙ্গা গণহত্যার এই স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন বলে আশা করছি।

শুভেচ্ছাসহ

সুশান্ত দাস গুপ্ত
জনৈক লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশী

Email:                    das.gupta@sushanta.net
Website:              www.sushanta.net
FB:                          www.fb.com/Sushanta.D.Gupta.

Open letter to the Members of UK Parliament regarding visit of Khaleda Zia

To

The Members of UK Parliament
House of Commons
London SW1A 0AA

Dear Sir/Madam,

I am writing to you as a person concerned with the political situation of one of the Commonwealth countries, Bangladesh, with whom UK’s partnership and friendship is a long-standing and time-tested one. As you are aware, Mrs. Khaleda Zia, Chairperson of Bangladesh Nationalist Party (BNP), is currently in London, UK for a personal visit. You might also be aware that her son the infamous Tareque Rahman has been absconding in London, UK evading serious criminal charges of multiple of corruption and terrorism. These two persons have been directly and indirectly responsible for a lot of destruction, carnage and unrest in Bangladesh.

In recent times, Bangladesh has seen a prolonged period of political turmoil, when BNP along with extremist ally Jamaat-E-Islami unleashed a reign of terrorism in the name of so-called “movement”. Arson, killings and vandalism were everyday occurrences. The Government has now brought the situation under control. Nonetheless, the possibility remains that any day they might embark on their signature tactics of bombing and killing, given their previous course of conduct.

For your ready reference, I have enclosed a number of key documents which will highlight three things:

1) How BNP-Jamaat has caused havoc and mayhem in Bangladesh from January to April 2015 killing and maiming hundreds in the name of their so-called “movement”;

2) What is the truth about Tareque Rahman and why the UK Government should be at the very least cautious and weary of him; and

3) How Khaleda Zia herself is trying to disrupt judicial processes in Bangladesh to cover up her corrupt activities during her stint as Prime Minister of Bangladesh from 2001-06.

As a friend and ally of Bangladesh, it is a moral responsibility of UK to play its due role in the maintenance of democracy, peace and rule of law in the former. Hence, we are requesting that you put efforts to persuade the UK Government in pressuring BNP to halt and refrain from any further destructive activities in the name of so-called “movements”, sever its ties with the extremist and war criminal infested Jamaat-E-Islami and participate in the democratic process via peaceful and legal activities.

Yours Sincerely,

Sushanta Das Gupta
London E6
United Kingdom

What the world should know about Tarique Rahman

The Interpol’s ‘most wanted’ list has carried Rahman’s picture with details, saying Bangladesh is seeking him to stand trial in the case. (Reuters)

The Interpol’s ‘most wanted’ list has carried Rahman’s picture with details, saying Bangladesh is seeking him to stand trial in the case. (Reuters)

Tarique Rahman, the Senior Vice Chairman of Bangladesh Nationalist Party (BNP) and eldest son of BNP founder Ziaur Rahman and current Chairperson Begum Khaleda Zia, seems to have recently embarked on a campaign to stir up one historical controversy after another. First, he came up with the previously unheard of “First President” theory, whereby the potential future chief of BNP propounded that it was in fact his father Major General (Retd) Ziaur Rahman, and not Bangladesh’s Father of the Nation Sheikh Mujibur Rahman or Acting President of Mujibnagar government Syed Nazrul Islam, who was the first President of Bangladesh! Continue reading

Khaleda Zia’s attempts to evade justice

On 25th February 2015, the Third Metropolitan Special Judges Court in Dhaka cancelled bail and issued arrest warrants for BNP Chief Khaleda Zia after she failed to appear in court in relation to pending cases of corruption against her.

On 25th February 2015, the Third Metropolitan Special Judges Court in Dhaka cancelled bail and issued arrest warrants for BNP Chief Khaleda Zia after she failed to appear in court in relation to pending cases of corruption against her.

On 25th February 2015, the Third Metropolitan Special Judges Court in Dhaka cancelled bail and issued arrest warrants for BNP Chief Khaleda Zia after she failed to appear in court in relation to pending cases of corruption against her. It should be noted that issuance of warrants of arrest for people who fail to appear in court, especially when answering on a criminal allegation, is a very ordinary court procedure, not unique to Bangladesh. Continue reading