Category Archives: Uncategorized

আমার প্রিয় সাস্ট ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা তৈরীর ইনসাইড স্টরি!

২০০১ জামায়াত-বিএনপি ক্ষমতায় আসলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জামাত-বিএনপি মতাদর্শের প্রচুর শিক্ষক নিয়োগ দেওয় হয়। এমনকি ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভিসি হাবিবুর রহমান এর মাধ্যমে নিয়োগকৃত বেশিরভাগ শিক্ষকই জামাত বিএনপিতে যোগ দিতে দেখেছি।তখন স্বাভাবিকভাবেই সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল, শিক্ষক সমিতি সর্বত্রই জামাত বিএনপির দৌরাত্ম ছিলো।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে ভিসি প্রফেসর সালেহ উদ্দিনের মাধ্যমে প্রগতিশীল শিক্ষার্থীরা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দের প্যানেল আধিপত্য ফিরে পায়। এরই মধ্যে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক জহির উদ্দিনের (যিনি বর্তমান ছাত্র উপদেষ্ঠা) স্ত্রীকে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ না দেয়ায় তার অনুসারী শিক্ষকরা প্রফেসর সালেহ উদ্দিন বিরোধী বলয় সৃষ্টি করে। এদের সাথে জাহাঙ্গীরনগর থেকে পাস করে শাবিপ্রবিতে শিক্ষক হওয়া শিক্ষকরা ছিলেন।

২০১০ সালে সিন্ডিকেট নির্বাচনে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক আব্দুল মুনিম জোয়ার্দার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দের প্যানেল থেকে নির্বাচন করলে জহির উদ্দিন গংরা তাকে ভোট না দিয়ে জামাতপন্থি শিক্ষককে ভোট দিয়ে জিতিয়ে দেয়। এর প্রতিবাদে ঐ দিন রাতেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ সভা করে এসব ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার জন্য প্রফেসর আক্তারুল ইসলাম, রাশেদ তালুকদার, জহির উদ্দিন ও হাসান জাকিরুলকে বহিষ্কার করেন। এর পর থেকে এই চার শিক্ষক পরের সকল নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দের প্যানেলের বিপক্ষে অংশ নেয়। এদের গ্রুপের নাম তারা দেয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তচিন্তায় উদ্ধুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ। যা বিদ্রোহী গ্রুপ হিসেবে পরিচিত। এদের গ্রুপে পরবর্তিতে প্রচুর জামাত ও বিএনপি পন্থী শিক্ষককে ভীড়ানো হয়। এরা জাফর ইকবাল বিরোধী শিক্ষক হিসেবেও ক্যাম্পাসে পরিচিতি পান। এদের মূল কাজ হয়ে দাড়ায় প্রশাসনের বিরোধিতা করা।

এরই মাঝে ২০১৪ সালে ভিসি হিসেবে নিয়োগ পান প্রফেসর আমিনুল হক ভুইয়া। আমিনুল ভুইয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে ২০১৫ সালে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দের সকল শিক্ষকরা প্রশাসন থেকে পদত্যাগ করলে আমিনুল হক ভুইয়া তার পদ টিকিয়ে রাখতে বিদ্রোহী গ্রুপের শিক্ষকদের প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দেন। রাশেদ তালুকদার ছাত্রকল্যান উপদেষ্ঠা, জহির উদ্দিন প্রক্টর, হাসান জাকিরুল, শাহেদ হাসান, শরদিন্দু ভট্টাচার্য, আমিনা পারভিন, শরিফা ইয়াসমিনকে বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, আক্তারুল ইসলামকে সেন্টার অব এক্সেলেন্সের পরিচালক, জাকির হোসনকে গবেষণা কেন্দ্রে পরিচালক, জহির বিন আলমকে পরিবহন প্রশাসক, হিমাদ্রী শেখরকে ভাষা ইন্সটিটিউটের পরিচালকসহ সর্বত্র বিদ্রোহী গ্রুপের শিক্ষকদের দায়িত্ব দেয়া হয়। এভাবে আমিনুল হক ভুইয়ার মেয়াদ শেষ হয়।

২০১৭ সালের ২১ আগস্ট ভিসি হিসেবে যোগদেন প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন। উনি বিদ্রোহী গ্রুপের বলয় থেকে বের হতে পারেননি। যদিও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দের প্যানেল থেকে তার নিজের এলাকার ও পছন্দের কিছু শিক্ষককে দায়িত্ব দিয়েছেন। শাবিপ্রবিতে কুমিল্লার আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় উনি সর্বোচ্চ চেষ্ঠা করেছেন। যেমন মেডিক্যাল সেন্টারের পরিচালক কবির হোসেন, লাইব্রেরীর দায়িত্বে আব্দুল বাতেন, আইআইসিটির পরিচালক জহিরুল ইসলাম, মুজতবা আলী হলের প্রভোস্ট আরেফিন নভেল, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক একেএম ফেরদৌস, এপিএস মিঠূসহ অনেক দায়িত্ব কুমিল্লার অধিবাসীদের দেয়া হয়। আর এককালের শিবির নেতা ও শিবিরের সভাপতির রুমমেট ও সনাতন ধর্মাবলম্বী এক শিক্ষার্থীকে থিসিসে সকল প্রশংসা আল্লাহর লিখতে বাধ্য করা ও পরবর্তিতে থিসিসে কম নম্বর দিয়ে ফলাফল বিপর্যয় ঘটিয়ে তাকে শিক্ষক হওয়ার প্রতিযোগিতা হতে দুড়ে ঠেলে দেয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত বিতর্কিত শিক্ষক সামিউল ইসলাম রাজনকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলেও প্রভোস্টের দায়িত্ব দেয়া হয়। এতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দসহ সিলেটি ও অন্যান্য এলাকার শিক্ষকবৃন্দ ভিসির প্রতি নাখোশ ছিলেন।

উল্লেখ করা প্রয়োজন শিক্ষক সমিতিসহ সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলে আওয়ামী পন্থী শিক্ষকদের মূল গ্রুপ তথা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দের প্যানেল সংখ্যাগরিষ্ট। বিগত নির্বাচনেও ১১ টি পদের মধ্যে ১ টি সদস্য পদ ছাড়া বাকি সব কটি পদে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দরা জয়লাভ করেন। দ্বিতীয়বারের মতো প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দের প্যানেলের প্রত্যাশা ছিলো তারাই দায়িত্ব পাবেন প্রশাসনে। কিন্তু ভিসি প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন বিদ্রোহী গ্রুপের শিক্ষকদের নিয়েই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় জহির উদ্দিনকে আরো পুরস্কৃত করে ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনার পরিচালক করা হয়। আর প্রক্টর করা হয় ভিসির কথিত আত্মীয় এবং ভিসির এলাকার ও ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত আলমগীর কবিরকে। আর প্রক্টর হিসেবে নেয়া হয় সাস্টিয়ানদের বাদ দিয়ে ঢাবি, জাহাঙ্গীরনগর ও বুয়েট থেকে পাশ করা একেবারেই জুনিয়র শিক্ষকদের। সামাজিক বিজ্ঞান ভবন সকল আন্দোলনের আতুরঘর হলেও সেই ভবনের বিভাগগুলো থেকে কোনো শিক্ষককে প্রক্টরিয়াল বোর্ডে না রেখে ওশোনোগ্রাফির মতো বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে ভিসি সহকারী প্রক্টর প্যানেল সাজান।

চরম আওয়ামী বিরোধী শিক্ষক জহির উদ্দিন ও প্রক্টর আলমগীর কবির দায়িত্ব পেয়েই ছাত্রলীগের কমিটি বাতিলের উদ্যোগ নেন। নতুন কমিটিতে যারা নেতৃত্বে আসবেন তাদের নামে পত্রপত্রিকায়া ভুয়া নিউজ ছাপিয়ে কমিটিও বিলম্বিত করেন। ফলস্বরূপ শাবিপ্রবিতে ছাত্রলীগের কোনো কমিটি নেই। এভাবেই শিক্ষকদের কথিত বিদ্রোহী গ্রুপটি ভিসিকে তাদের কব্জায় বন্দি করে রাখেন।

ফরিদ উদ্দিন আহমেদ স্যার আরেকটি পন্থা বেছে নেন। সেটা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বাইরে ব্যক্তিগত একটি বলয় তৈরি করেন। এ বলয়ের অন্যতম হচ্ছেন বিবিএ এর ড. খায়রুল ইসলাম রুবেল, নৃবিজ্ঞানের আবুল ফজল মো. জাকারিয়া (জামায়াত পন্থি), বিবিএ এর ড. মাজহারুল মজুমদার, কর্মকর্তা তাজিম উদ্দিন। তাদের সবাইকে নিয়ম ভঙ্গ করে বিভাগের প্রধান, ডীন বানান, আর পদোন্নতি দেন। পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগ পন্থী অনেক শিক্ষকের পদোন্নতি দিতে সময় ক্ষেপন করেন। সরকার পন্থী দু’দল শিক্ষকের বিরোধ থাকায় ক্যাম্পাসে অন্যতম সুবিধা পায় বিএনপি – জামায়াত পন্থী শিক্ষক – কর্মকর্তারা। অনেককে বিভিন্ন কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়, তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করা হয়।

এবার আসা যাক সাম্প্রতিক সংকট নিয়ে। যে হলটি নিয়ে আন্দোলন সেই সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলেও প্রভোস্ট হলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দের প্যানেলের শিক্ষক সাস্টিয়ান ও এক সময়কার প্রভাবশালী শিক্ষক সাবেক ছাত্রলীগের তুখোড় নেতা নাসিম সাইদীর ছোট বোন জাফরিন লিজা। সে প্রভোস্ট কোটায় সিন্ডিকেট সদস্যও। আগামী ২ ফেব্রুয়ারী সিন্ডিকেট নির্বাচন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দের প্যানেল এবারও সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্টতা পাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা ছিল। এরই মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ ক্যাম্পাসে বারবিকিউ পার্টি ও প্রাক্তন শিক্ষকদের সম্মাননা দিয়ে এর জানান দেয়।

ঘটনার সূত্রপাত ১৩ জানুয়ারী রাতে। ১২ জানুয়ারী প্রভোস্ট লিজা কোভিড আক্রান্ত হয়ে হোম হাইসোলেশনে আছেন বলে সবাইকে জানান। অথচ ১৩ জানুয়ারী রাতে তাকে হলে আসতে বলায় স্বাভাবিকভাবেই সে যায়নি। আর এই অভিযোগে ঐ হলেও ছাত্রীরা রাত ১ টার দিকে ভিসি বাংলো ঘেরাও করতে চলে আসলো। অথচ পাশেই হলো প্রথম ছাত্রী হল। সে হল অনেক পুরাতন। আর সিরাজুন্নেছা হল একেবারেই নতুন। টিলার উপর অবস্থিত। ফিটিংসগুলো নতুন। ডিস্টেম্পারসহ কক্ষগুলোও ১ম ছাত্রী হল থেকে শুষ্ক ও ভালো। ১ম ছাত্রী হলের প্রভোস্ট হলেন বিদ্রোহী গ্রুপের ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা বামপন্থী শিক্ষক জায়েদা শারমিন স্বাতি। একই রকমের সুযোগ-সুবিধা ও সমস্যা থাকা সত্বেও ১ম ছাত্রী হলের প্রভোস্টের বিরুদ্ধে কোনো টু শব্দ এখন পর্যন্ত নেই। অথচ সিরাজুন্নেসা চৌধূরী হলের প্রভোস্ট জাফরিন লিজা কেবল সাস্টিয়ান সিলেটি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দের প্যানেল থেকে আসায় তার বিরুদ্ধে আন্দোলন বলে অনেকেই মনে করেন। শিক্ষকদের ঐ পক্ষ চাচ্ছিলেন লিজাকে আন্দোলনের মাধ্যমে সড়ানো গেলে তাদের প্যানেল থেকে একজনকে দায়িত্ব দিয়ে সিন্ডিকেট সদস্য বানানো। ভিসি কথিত আন্দোলনের মুখে প্রথমে তার এলাকার ও বিদ্রোহী গ্রুপের শিক্ষক খ্যাত জোবায়দা কনককে ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্টের দায়িত্বও দেন।

আন্দোননের ২য় দিন শনিবার রাতে ছাত্রীরা রাস্তা ব্যারিকেড দিলে ছাত্রউপদেষ্ঠা ও প্রক্টরের সামনে গুটিকয়েক ছাত্র আন্দোলনরত ছাত্রীদের উপর হামলা করলেও তারা জহির উদ্দিন ও আলমগীর কবিরের বিরুদ্ধে আন্দোলন বা নিন্দা জানাননি। বরং তাদের একদাবী লিজাকে অপসারন। এর মধ্যেই পরিস্কার হয়ে যায় কথিত আন্দোলনটি মূলতঃ ছাত্র উপদেষ্ঠা ও প্রক্টরের সাজানো।

পরের দিন রবিবার এই আন্দোলনের সময় ভিসি পায়ে হেঠে তার অফিস থেকে বের হলেও ছাত্রউপদেষ্ঠা ও প্রক্টরের পরামর্শে তিনি আইআইসিটি ভবনে গিয়ে উঠেন। একদিকে আন্দোলনকারীরা চাচ্ছেন লিজাকে অপসারন। অপরদিকে বাইরে অবস্থানরত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ চাচ্ছেন তাদের প্রুপ থেকেই পরবর্তী প্রভোস্ট দিতে হবে। কারন এই প্রভোস্ট পদটি খুবই গুরুত্বপূর্ন। এ পদে যেই আসবেন তিনিই হবেন সিন্ডিকেট সদস্য। পরে ভিসি রাজি হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দের প্যানেল থেকে সাস্টিয়ান সিলেটি প্রফেসর নাজিয়া চৌধুরীকে প্রভোস করেন।

আন্দোলন যখন প্রায় শেষের পথে ও মাগরীবের আজান হচ্ছে তখনই পুলিশ উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালায়। আর এই হামলার প্রতিবাদেই ভিসির পদত্যাগ দাবী করা হয়। যা অনশন পর্যন্ত গিয়ে ঠেকে। অথচ আজ অবধি এর প্রতিবাদে ছাত্র উপদেষ্ঠা বা প্রক্টরের পদত্যাগ দাবী করা হয়নি। এছাড়া যারা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা মূলতঃ বাম সংগঠনের নেতা কর্মী ও সাস্টের বিভিন্ন ক্লাব তথা রিম, কিন, ডিবেটিং এর সদস্যরা। তারা প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্ঠার পকেটের ছেলে মেয়ে হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

এটাই নিয়ম যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রশমনে কাজ করেন প্রক্টরিয়াল বডি। এখন পর্যন্ত প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্ঠা এমনকি কোনো সহকারী প্রক্টরও আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের মাঝে উপস্থিত হননি। হবাক হওয়ার বিষয় আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন শিক্ষকবৃন্দকে নিয়ে কঠূক্তি করলেও এখন পর্যন্ত ছাত্র উপদেষ্ঠা জহির উদ্দিন, প্রক্টর আলমগীর কবির বা কোনো সহকারী প্রক্টরের বিরুদ্ধে কথা বলেননি। আমি যত দূর জানি ঘটনার পর থেকে প্রক্টর আলমগীর কবির ভিসির বাসায় অবস্থান করছেন। খাওয়া দাওয়া গোসল ঘুম সেখানেই সারছেন। বাসা থেকে প্রক্টরের লাগেজও পৌছানো হয়েছে ভিসির বাংলোয়। ভিসির বাসা এক সপ্তাহ ধরে আন্দোলনকারীরা ঘেরাও করে রাখলেও অনেক সাধারন শিক্ষক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দকে তা ম্যানেজ করতে ভিসি ডেকে পাঠালেও তার ভবনে থাকা প্রক্টর আলমগীর কবিরকে বাইরে আসতে দিচ্ছেন না। আর আলমগীর কবির ভিসির ভবনে আগত শিক্ষক, কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের খেদমতদারীতে তথা দেখভাল করতে ভিসি ব্যস্ত রেখেছেন।

সাস্ট ক্যাম্পাস ও বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত খবরে আমি অবগত যে এ আন্দোলন ভিসির কাছের লোকের মাধ্যমে একটি কৃত্রিম আন্দোলন ছিল। কিন্তু এখন সেটা বুমেরাং হয়ে দাড়িয়েছে। দক্ষ সাপুরে অনেক সময় অসতর্কতাবশতঃ নিজের পোষ্য সাপের ছোবলে আমরা মরতে দেখেছি। আর ভিসি সেই দক্ষ সাপুরের মতো নিজপন্থী শিক্ষকদের গড়া লক্ষিন্দরের ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। আর ষড়যন্ত্রকারীদের সেই ঘরে রেখে যাওয়া ছোট্ট গর্ত দিয়ে সাপ ঢুকে ভিসিকে ছোবল দিচ্ছে।

সুশান্ত দাস গুপ্ত
সিভিল এন্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং
১ম ব্যাচ( ১৯৯৫-৯৬)

একাদশ জাতীয় সংসদঃ বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে কেমন হতে পারে সমীকরণ?

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে লিখেছিলাম। লিখেছিলাম আগামী নির্বাচনে বিএনপি আসবে না। এক বন্ধু ইনবক্সে বললো, বুঝলাম বিএনপি আসবে না! তোমার এনালাইসিস ঠিক আছে। এখন একটা এনালাইসিস দাও যদি বিএনপি নির্বাচনে আসে।

বিএনপি যদি নির্বাচনে আসে এবং জামায়াতের সাথে জোট করে তাহলে তারা কতোগুলো আসনে জিতবে এটা নির্ভর করবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীতা সিলেক্সন কেমন হবে সেটার উপর।

আওয়ামী লীগের ১০০ থেকে ১৩০ টি আসনে জয় আটকানোর মতো বিএনপির কোন প্রার্থী নেই। বাকি থাকলো ১৭০ থেকে ২০০ আসন। এসব স্থানে আওয়ামী লীগকে জিততে হলে নতুন মুখ দিতে হবে। বর্তমান এমপিদের দিলে ধরা খাওয়ার চান্স আছে।

বিএনপির ধারনা তাদেরকে লোকে ঠিকই ভোট দিবে কিন্তু সেগুলা ঠিকমতো কাউন্ট হবে না। এটা আসলে ভুল ধারনা। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তি ও মিডিয়ার স্বর্ণযুগে ভোট কারচুপির কোন সুযোগ থাকলেও সেগুলা ধামাচাপা দেওয়ার সুযোগ কম। তবে বিএনপির যদি সেন্টারে সেন্টারে তাদের এজেন্টই দেওয়ার মতো কর্মী না থাকে তাহলে তো দুঃখের কথা।

মোট কথা বিএনপি নির্বাচনে আসলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। বলা মুসকিল কে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। তবে আওয়ামী লীগ ১৬০-১৭০ টি আসন জিতে ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

বিএনপি’র একটা সম্ভাবনাই আছে যদি তারা জামায়াত ছেড়ে ৩০০ আসনের ২৫০-২৭০ টি আসনে রাজনৈতিক মাঠে একদম ফ্রেস এবং ইয়ং এডুকেটেড স্মার্ট প্রার্থী দিতে পারে। আগে বিএনপি করেছে এমন যেকোন প্রার্থী খুব সহজেই ভোটের মাঠে পরাজিত হবে। ফ্রেস প্রার্থী দিলে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠ  আসনে জিতে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে!

দেখা যাক কি হয়- সময় তো আর বেশি নাই। তবে আমার বাজি আওয়ামী লীগেই৷ রাজনৈতিকভাবে বিএনপি এতো দেউলিয়া যে জামায়াতের সহযোগিতায় এরা যতোই আগানোর চেষ্ঠা করবে ততই যুবক প্রজন্ম তাদের প্রত্যাখান করবে।

বিএনপি যেহেতু আর কোনদিন জামায়াতকে ছাড়তে পারবে না, কাজেই বিএনপি’র রাজনীতি ও কোনদিন দেশের শাষনভার পাবে না।

কি হতে পারে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে?

পরিচিত অনেকেই জিজ্ঞেস করে, আগামী নির্বাচনে কি হতে যাচ্ছে? বিএনপি কি নির্বাচনে আসবে? না আসলে আওয়ামী লীগ কি একাই নির্বাচন করবে? রাজনৈতিক মহলে এগুলা কমন প্রশ্ন মুখে মুখে।

যেহেতু রাজনীতিতে আছি এবং নানা ধরনের লোকের সাথে কথা বার্তা হয় তাই আমি ব্যক্তিগত ভাবে কিছু এসেসমেন্ট করেছি। সেগুলা একটু বলি, পরে মিলাইয়া নিতে পারেন।

বিএনপি আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসবে না। তাদের ধারণা নির্বাচনের দুই একদিন আগে দেশে সাধারণ মানুষের নামে বিশাল মুভমেন্ট হবে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যাবে এমন কিছু। অথবা নির্বাচন হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেও বেশিদিন ঠিকবে না। দ্বাদশ নির্বাচনে বিএনপি এসে জয়ী হয়ে যাবে। আমার ধারণা বিএনপি তাদের রাজনীতির কবর রচনা করতে যাচ্ছে। কারণ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি ছাড়াই সুন্দরভাবে হবে এবং আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে আরো ৫ বছর কাটিয়ে দিবে। বিএনপি যেখানে ভুল করছে সেটা হলো তাদের নেতা কর্মী এবং সাধারণ মানুষের কাছে ভুল প্রত্যাশা। এরা কোনদিন ও আর বিএনপি’র ডাকে কোন মুভমেন্টে যাবে না।

বিএনপি নির্বাচনে না আসার কারনে স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় পার্টির কপাল খুলবে। এবার কিছুটা বেশি আসন ও পাবে এবং যথারীতি বিরোধিদলে থাকবে। এতে অনেক আওয়ামী লীগ এমপির কপাল পুড়তে পারে।

চামে চিকনে বামপন্থী কিছু লোক এমপি হয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে।

বেশি কিছু আসনে আওয়ামী লীগ বনাম বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ ব্যাপক প্রতিযোগিতা হবে এবং বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ থেকে অনেক এমপি জয়ীও হবে।

বিএনপি নির্বাচন যাতে সুষ্ট না হয় কিছুটা চেষ্টা করবে তবে দিনশেষে ধুলায় অন্ধকার, কিছুই করতে পারবে না।

আপাতত এটুকুই আমার এসেসমেন্ট। বাকিটা পরে লিখবো।

আমার রাজণীতির নেশার যেখানে শুরু

রাজণীতির নেশা আমার এসেছে আসলে মা’র দিক থেকে। বাবার দিক থেকে কেউ কোনদিন রাজণীতিতে ছিলো না। আমার ৫ মামা, তিন মাসীর জন্ম হবিগঞ্জ শহরে, রামকৃষ্ণ মিশনের পাশে এখন যে ‘ছবর মঞ্জিল’ এটাই ছিলো আমার মা’দের বাসা। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সবাই চলে যায় ভারতে। একমাত্র আমার মা থেকে যান দেশে।

আমার বড়ো মাসী ৬০-৭০ দশকে বৃন্দাবন সরকারী কলেজে ছাত্র রাজনীতি করতেন। একবার ছাত্র সংসদে জিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখনকার সময়ে একজন নারী নেত্রী। মাসী এখনো জীবিত আছেন, থাকেন আসামের লামডিং। সেই মা মাসীদের জিন থেকেই আমার রক্তে এসেছে রাজনীতি।

হবিগঞ্জ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের আমার বন্ধুরা জানে আমি যখন ক্লাস নাইনের জীববিজ্ঞানের পরীক্ষার খাতায় ডিগ্রী ক্লাসের বই থেকে উত্তর লিখতাম, অজিত স্যার কাছে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞেস করতেন, ডিগ্রীর ক্লাসের উত্তর দেওয়ার কি দরকার! তুমি এমনি ভালো করবে।

বৃন্দাবন কলেজে কেমেস্ট্রির সুধাংশু স্যার যখন হাতে বেতের বারি দিয়ে বলতেন, তুই তো সেকেন্ড ইয়ারেই উঠতে পারবি না! সেই আমিই কলেজের একমাত্র স্টার মার্ক নিয়ে ইণ্টার পাশ করে বের হয়েছি।

ভার্সিটির গল্প আরেকদিন করবো।

এখন ইউকে’তে একজন ইনকর্পোরেটেড সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়া সত্বেও আমাকে কোন ভুতে ধরেছে যে আমাকেই দেশে গিয়ে রাজণীতিবিদ হতে হবে! ঐ যে বললাম রাজনীতির নেশা। এই নেশাই কাল হলো।

ভাবছি মাসীর সাথে একবার কথা বলবো। পুরনো কিছু গল্প শুনবো। শুনবো কিভাবে মেরুদণ্ড সোজা করে রাজনীতি কর‍তে হয়। কারো আন্ডারওয়ার হয়ে নয়!